খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির সঙ্গে জড়িত বড় নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে পুলিশ

কানাডার তিনটি প্রদেশ অন্টারিও কুইবেক ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়াজুড়ে বিস্তৃত এক সংঘবদ্ধ খুচরা চুরি চক্রকে ভেঙে দিয়েছে পুলিশ

কানাডার তিনটি প্রদেশ অন্টারিও, কুইবেক ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়াজুড়ে বিস্তৃত এক সংঘবদ্ধ খুচরা চুরি চক্রকে ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। মাসব্যাপী তদন্ত শেষে এই চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হ্যামিল্টন পুলিশ। অভিযানের অংশ হিসেবে ১০ লাখ কানাডিয়ান ডলারের বেশি মূল্যের চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রজেক্ট সোমস’ নামের এই তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শপার্স ড্রাগ মার্টের একাধিক শাখায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনার পর হ্যামিল্টন পুলিশ সন্দেহভাজন কয়েকজনকে শনাক্ত করে। প্রাথমিক তদন্তেই পুলিশের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত অপরাধী নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এসব চুরি চালিয়ে আসছে।

- Advertisement -

পুলিশ জানায়, তারা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতেই শত শত চুরির ঘটনার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের যোগসূত্র খুঁজে পায়। তদন্তে উঠে আসে, চোরাই পণ্যগুলো অন্টারিওর মিসিসোগার এক ব্যক্তির কাছে পাচার করা হতো। পরে সেগুলো ব্র্যাম্পটনের এজি লিকুইডেশনসহ বিভিন্ন পাইকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ।

মাসব্যাপী অনুসন্ধান ও নজরদারির পর গত ১৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ অন্টারিওজুড়ে একযোগে ১৬টি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করে পুলিশ। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাই সামগ্রী উদ্ধার করা হয় এবং একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।

তদন্তকারীরা জানান, অভিযানের কয়েকদিন আগেই দুজন প্রধান সন্দেহভাজন ভ্যানকুভারে পালিয়ে যান এবং সেখানেও খুচরা দোকানে চুরি চালিয়ে যেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ভ্যানকুভার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে তাদেরকে হ্যামিল্টনে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

এই অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৭৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের বয়স ৭৫ বছর এবং তিনজনের বয়স ১৮ বছরের কম। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের সময় অনেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেই মুক্তির আদেশ (রিলিজ অর্ডার) কার্যকর ছিল অথবা তারা বিদ্যমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় ছিলেন।

হ্যামিল্টন পুলিশের উপপ্রধান রায়ান ডিয়োডাটি বলেন, “খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি কোনো ভুক্তভোগীবিহীন অপরাধ নয়। এর প্রভাব অনেক গভীর। যখন খুচরা বিক্রেতারা বারবার চুরির শিকার হন, তখন পুরো কমিউনিটিই তার ফল ভোগ করে পণ্যের দাম বেড়ে যায় এবং অনেক সময় প্রয়োজনীয় পণ্যের প্রাপ্যতাও কমে যায়।”

পুলিশের মতে, এই ধরনের সংঘবদ্ধ চুরি শুধু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়েও সরাসরি প্রভাব ফেলে।

হ্যামিল্টন পুলিশ জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে এই ধরনের সমন্বিত তদন্ত ও আন্তঃপ্রাদেশিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিরাপত্তা জোরদার এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত পুলিশের নজরে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

- Advertisement -

Read More

Recent