
কানাডার টরন্টো শহরে নিখোঁজ এক কিশোরীকে ঘিরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তার কোনও খোঁজ না মেলায় উদ্বিগ্ন পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে কিশোরী এস্থারকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সহায়ক কোনও তথ্য দিলে ২৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অটিজমে আক্রান্ত কিশোরী এস্থারকে সর্বশেষ দেখা যায় গত ১৬ মে রাত ১২টা ১ মিনিট নাগাদ। সে সময় তিনি ছিলেন ব্যাথার্স্ট স্ট্রিট ও হটস্পার রোড সংলগ্ন এলাকায়, যা আর্ল বেলস পার্ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এর পর থেকেই তার আর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এস্থারের নিখোঁজ হওয়ার পরপরই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। পরে আর্ল বেলস পার্ক এলাকাকে কেন্দ্র করে বৃহৎ অনুসন্ধান চালানো হয়। ড্রোন, অনুসন্ধানকারী দল এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের নিয়েও অভিযান চালায় টরন্টো পুলিশ। তবে এত কিছুর পরও এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত কোনও সূত্র হাতে আসেনি।
শনিবার টরন্টো পুলিশ এস্থারের একটি নতুন ছবি প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ছবিটি ১৫ মে তোলা হয়েছিল, অর্থাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঠিক একদিন আগে। যদিও ছবিটি কোথায় তোলা হয়েছিল সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করতে একটি বিশেষ ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে তথ্য জানাতে পারেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এস্থারকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল খালি পায়ে। তার পরনে ছিল ধূসর রঙের সোয়েটপ্যান্ট এবং টার্কিজ রঙের একটি সোয়েটার। এস্থারের উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, গায়ের গঠন মাঝারি এবং চুল ধূসর রঙের।
এদিকে, নিখোঁজ কিশোরীকে খুঁজে পাওয়ার আবেদন জানিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যে পোস্টার লাগানো হয়েছিল, তার কিছু ছিঁড়ে ফেলা ও নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এস্থারের পরিবার। পরিবারের এক প্রতিনিধি বলেছেন, “একজন নিখোঁজ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলছে, সেখানে পোস্টার নষ্ট করা অত্যন্ত হৃদয়হীন এবং গভীরভাবে সমস্যাজনক আচরণ।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবার শুধু চায় এস্থার নিরাপদে বাড়ি ফিরুক। এই মুহূর্তে জনসাধারণের সহযোগিতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
টরন্টো পুলিশ ইতিমধ্যেই এস্থারের অনুসন্ধানকে “লেভেল ওয়ান” তদন্তে উন্নীত করেছে, যা বাহিনীর সর্বোচ্চ স্তরের অনুসন্ধান অভিযান হিসেবে বিবেচিত হয়। গত বছর টরন্টো শহরে প্রায় ৩ হাজার ১০০ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার মধ্যে মাত্র পাঁচটি ক্ষেত্রে এই বিশেষ স্তরের অভিযান চালানো হয়েছিল। ফলে বিষয়টির গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে পুলিশ এখনও প্রকাশ করেনি, ঠিক কোন কারণে অনুসন্ধানের মাত্রা এতটা বাড়ানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থেই এই তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, এস্থারের নিখোঁজ হওয়া পুরো সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে খুঁজে পাওয়ার আবেদন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বহু স্বেচ্ছাসেবী এখনও বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছে, কেউ যদি এস্থার সম্পর্কে সামান্যতম তথ্যও জেনে থাকেন, তাহলে যেন দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তকারীদের মতে, ছোট্ট কোনও তথ্যও এই মামলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
