
কানাডার টরন্টোর ডাউনটাউন এলাকায় হঠাৎ করেই মাদকজনিত ওভারডোজের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণকে সতর্ক করেছে টরন্টো পাবলিক হেলথ। শুক্রবার জারি করা এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ওভারডোজের ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও এসব ঘটনার সঙ্গে ঠিক কোন ধরনের মাদক জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তদন্ত এখনও চলমান। তবে তারা এমন একটি অজানা সাবস্ট্যান্স সম্পর্কে তথ্য পেয়েছেন, যা দেখতে কাচের টুকরোর মতো এবং অনিয়ন্ত্রিত বা অবৈধ মাদক সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। এই পদার্থটির প্রকৃত রাসায়নিক গঠন বা এতে কী উপাদান রয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত জানায়নি, এই সাবস্ট্যান্সের কারণে মোট কতজন ওভারডোজের শিকার হয়েছেন কিংবা এর ফলে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না। ফলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। টরন্টো পাবলিক হেলথ বলেছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই জনসাধারণ, বিশেষ করে যারা মাদক ব্যবহার করেন, তাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তা দ্রুত জনসাধারণকে জানানো হবে।
সতর্কবার্তায় মাদক ব্যবহারকারীদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়েছে টরন্টো পাবলিক হেলথ। সংস্থাটির মতে, যদি কেউ মাদক গ্রহণ করতেই চান, তাহলে কখনোই একা তা গ্রহণ করা উচিত নয়। বরং বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তিকে পাশে রেখে মাদক ব্যবহার করলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়া সম্ভব।
এছাড়া প্রত্যেকের কাছে ন্যালোক্সোন কিট রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওপিয়ড জাতীয় মাদকের ওভারডোজের ক্ষেত্রে ন্যালোক্সোন জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা রাখতে পারে। এটি সাময়িকভাবে ওভারডোজের প্রভাব কমিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় এনে দেয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, ন্যালোক্সোন কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নয়; এটি ব্যবহারের পরও দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অবৈধ মাদকের বাজারে প্রায়ই এমন অজানা ও শক্তিশালী রাসায়নিক মিশ্রিত পদার্থ পাওয়া যায়, যার প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে ব্যবহারকারীরা অবগত থাকেন না। ফলে সামান্য পরিমাণ গ্রহণ করলেও প্রাণঘাতী ওভারডোজের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই কারণেই জনস্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
কর্তৃপক্ষের আশা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অনুসরণ করলে ওভারডোজের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন স্বাস্থ্য নির্দেশনা প্রকাশ করবে।
