আকস্মিক ইউক্রেন সফর !

ইউক্রেন সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অঘোষিত সফরে রোববার ইউক্রেনে যান। সফরকালে তিনি কিয়েভে কানাডিয়ান দূতাবাস উদ্বোধন করেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রাশিয়া ইউক্রেন অভিযান শুরু করার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদোমির জেলেনস্কির সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাৎ করলেন জাস্টিন ট্রুডো। এক সংবাদ সম্মেলনে উভয় নেতাকেই দেখা যায়।

- Advertisement -

জাস্টিন ট্রুডো কানাডার তরফ থেকে ইউক্রেনের জন্য নতুন করে ৫ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা ঘোষণা করেন। এসব সহায়তার মধ্যে আছে ড্রোন ক্যামেরা, স্যাটেলাইট ইমেজারি, ক্ষুদ্র অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং মাইন অপসারণে তহবিল জোগান। ইউক্রেনের খাদ্য নিরাপত্তায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিচ্ছে কানাডা। এছাড়া ইউক্রেন থেকে সব ধরনের আমদানি বাধা আগামী বছরের জন্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

পাশাপাশি অটোয়া রুশ সরকার ও প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে এমন ৪০ রুশ নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করেছে। তারা সবাই ইউক্রেন যুদ্ধে ভ্লাদিমির পুতিনের সহযোগী বলে জানান জাস্টিন ট্রুডো। এছাড়া নারী সংগঠন, মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সহায়তায়ও তহবিলের জোগান দিচ্ছে কানাডা।

আকস্মিক এই সফরে উপপ্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি ট্রুডোর সঙ্গে ছিলেন। সফরকালে যুদ্ধে ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত ইরপিন পরিদর্শন দিয়ে তাদের দিন শুরু হয়। বিধ্বস্ত পৃথিবী পুনর্গঠনে ব্যস্ত ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রত্যক্ষ করার কথা জানান ট্রুডো। তিনি বলেন, জনগণকে তাদের জীবন, রাষ্ট্র ও তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত রক্ষায় রুখে দাঁড়াতে দেখাটা উৎসাহের। জঘন্য যুদ্ধপরাধে ভ্লাদিমির পুতিন যে দায়ী সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তাকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। কানাডা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

রুশ আগ্রাসনের ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর গত জানুয়ারিতে কানাডা ইউক্রেনে তাদের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমিয়ে আনতে শুরু করে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অধিকাংশ পশ্চিমা দেশের প্রতিনিধিরা ইউক্রেন ছেড়ে যান। কিন্তু যুদ্ধ প্রলম্বিত হওয়া সত্ত্বেও দুই ডজনের বেশি এরইমধ্যে সেখানে ফিরে গেছেন। জি৭ভুক্ত কানাডার বেশ কিছু সহযোগী এরইমধ্যে কিয়েভে ফিরে গেছে। ফ্রান্স ও ইতালি কিয়েভে ফিরেছে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে। ইউক্রেন ফিরেছে গত সপ্তাহে।

উল্লেখ্য, ট্রুডো, ফ্রিল্যান্ড ও জোলি রোববার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কিয়েভে কানাডার দূতাবাসে প্রবেশ করেন।

- Advertisement -

Read More

Recent