পুতুল নাচের ইতিকথা

জগতসংসার যদি একটা রঙ্গমঞ্চ হয় তাহলে আমরা সেখানে পুতুলের মতো। আড়ালে বসে কেউ একজন আমাদের খেলাচ্ছেন৷ সংসারে মানুষ যে পুতুলের মতো অদৃশ্য কোনো এক সূতোর টানে নেচে চলেছে এবং সেখানে কারোরই নিয়ন্ত্রণ নেই – এই বাক্যটিই মূলত এই উপন্যাসের সারকথা৷
মানুষের কল্পনা আর জীবনের বাস্তবতা দুটো দুইধারায় বয়ে চলা নদী। কোন অদৃশ্য সুতো আর কোন দৃশ্যমান বাস্তবতা মানুষকে রোজ সকালে পুতুল বানিয়ে পৃথিবীর বুকে ঠেলে দেয় আর মানুষ সেই সেই সুতো নাচতে নাচতে কখনো ইতিরেখা স্পর্শ করে সে নিজেই জানতে পারে না। আর যখন জানে তখন অনেক বেশি দেরি হয়ে যায়।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন পড়তে হয়? শুধুমাত্র কী মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ খুঁজে পাই “পুতল নাচের ইতিকথা” উপন্যাসে?
“পুতুল নাচের ইতিকথা” র উল্লেখযোগ্য চরিত্র শশী ডাক্তার।একই সাথে দুইটি ভিন্ন সত্তা লালনকারী এই চরিত্রটি মানিকবাবুর এক চমৎকার আবিষ্কার।
শশী হারু ঘোষ এর মৃতদেহ নামানোর ব্যাপারে গোবর্ধন কে বলছে – “দূর হতভাগা, তোকে ছুঁতে নেই”এবং শশী তার সাথে ই ভাবছে – “… অপঘাতে মৃত্যু হইয়াছে– মুক্তি হারুর গোবর্ধন ছুঁইলেও নাই,না ছুঁইলেও নাই।”
আবার এই শশী ই গোবর্ধন কে বলেছিল, “ভুত যদি হয় তো বেধে এনে পোষ মানাবো,গোবর্ধন। নৌকা ফেরা..!”
পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসে উঠে এসেছে গাওদিয়া নামক গ্রামের জীবনযাত্রা প্রণালী ও বিশেষ কিছু সমস্যার খন্ডিত চিত্র৷ গ্রাম্য এক ডাক্তারকে নিয়ে শুরু হয়েছে। তার জীবনে প্রধান সমস্যা প্রতিবেশী বন্ধু পরাণ এর বউ কুসুমের প্রতি তার এক দুর্বোধ্য আকর্ষণ। দীর্ঘকাল যাবত তার এই ভালোবাসা অনুচ্চারিতই থেকে গেছে৷ এদিকে কুসুম চরিত্রটিও রহস্যাবৃত। কখনো সে একদমই সচ্ছ আবার কখনোবা বেশ দুর্বোধ্য। এই উপন্যাসের উপজীব্যটা মূলত তাদের দুজনের অবর্ণনীয় সম্পর্কের টানাপোড়ন নিয়েই৷
প্রেমের সাথে বাস্তবতার, বাবার সাথে ছেলের, শিক্ষার সাথে গোঁড়ামির, গ্রামের সাথে শহরের, ভাগ্যের সাথে মানুষের যে অদ্ভুত সংঘর্ষ সেটা নিয়েই মানিক বন্দোপাধ্যায়ের উপন্যাস – ‘পুতুলনাচের ইতিকথা”।

- Advertisement -

ইস্টইয়র্ক, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent