
কি লিখবো? কাকে লিখবো? কিইবা হবে লিখে? এমন প্রশ্নই ঘুরছে ক’দিন থেকে। চোখের সামনে অন্যায় দেখতে দেখতে যখন সব সয়ে যায়, তখন নিজের প্রতিই এক ধরনের ঘৃণা জন্মে। দীর্ঘদিন তরুণদের সাথে নিয়ে কাজ করি, ওদের নিয়েই স্বপ্ন দেখি। যখন এদেশের তরুণদের বিভ্রান্ত করে, হত্যা করে বুড়োরা তামাশা করে তখন ঘৃণাটা নিজের ভেতর আরো ছড়াতে থাকে। সেটাযে কি ভয়াবহ বিষাদ! একটা সময় তবু সমসাময়িক কিছু মানুষের উপর বিশ্বাস ছিল। এখন ঠিক কাকে বিশ্বাস করবো, জানিনা।
ছাত্র জীবনে ১৯৮৩ সালে ১৪ই ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আটকে পড়ার ভয়াবহ স্মৃতিটা মনে পড়লে এরশাদের প্রতি ঘেন্না কাজ করে। ছাত্রজীবনের স্বাভাবিক চলমান গতি বারবার থেমেছে ঐ লোকটার জন্য। ভুলে কি গেছি আসলে?
রাস্ট্রীয় সম্পদ ধংস জঘন্যতম কাজ। এর সাথে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরিহার্য। কিন্তু এই রাস্ট্রীয় সম্পদে কি দেশের দেশের শিশু, কিশোর, তরুণের জীবন অন্তর্ভুক্ত নয় ? এসব সম্পদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন বাহিনীর পেছনে রাস্ট্রের কোটি কোটি টাকা, সুযোগ সুবিধা বিনিয়োগ যে করা হয় তার যুক্তিটা কি? নাকি তাদের কাজ নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো আর এসব রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়ে নিজ দেশের মানুষদের জন্য গুলি খরচ করা?
একটা দেশের নেতা-নেত্রীদের অন্তত কিছুটা আদর্শিক অবস্থান, সামান্যতম সাংস্কৃতিক চেতনা ও সৌজন্যবোধ থাকলে তরুণ সমাজের শ্রদ্ধা পাবার পাওয়াটা কঠিন কিছু নয়। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতা পাওয়াটাতো আশীর্বাদ। সবচেয়ে ক্ষতিটা হলো তাঁর। তরুণ প্রজন্মের কাছে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধার আসনে রাখতে কি চমৎকার সুযোগ পেয়েছিলেন তারা। নিজেরাই নষ্ট করছেন সেই সুযোগ।
ক্ষমতার সাথে তরুণদের চিন্তা ও চর্চার বৈপরীত্য থাকাটাই স্বাভাবিক। বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্বটা কার? উদ্যোগ ক্ষমতাকেই নিতে হয়। ক্ষমতা’র মমতাময় বৈশিষ্ট্যই তরুণ, কিশোর, শিশুদের কাছে আচরণের সংস্কৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিদ্বেষের বিষ ছড়িয়ে, এপাশ ওপাশ ম্যানেজ করা ধান্দাবাজ তোষামোদকারীদের সাথে নিয়ে কল্যাণকর কিছু কি হয় আসলে? দেশের উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে অন্যায়ের পরিমানও বেড়েছে বিপুল পরিমাণে। দূর্নীতিবাজদের সকল ক্ষমতার উৎস বানিয়েছে কারা আসলে?
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা আর ব্যবহার কখনোই এক নয়। হতেও পারেনা। একইভাবে ধর্মের প্রতি বিশ্বাস, আনুগত্য আর তাকে ব্যবহার করা কখনোই এক হতে পারেনা। এসব খেলা তারা খেলবেই, কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত আগামী প্রজন্ম জীবন দিয়ে হলেও সেটা থামাবে নিশ্চিত!
