
আমরা বিএনপি-জামাত জোট এবং আওয়ামী লীগের শাসন দেখেছি। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ একাধিক বার ক্ষমতায় ছিল কিন্তু এই প্রধান দুই দলের কোনটাই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে পারে নাই। বার বারই তারা ব্যর্থ হয়েছে। দুই দলই ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য সুশাসনকে ভুলুন্ঠিত করেছে।
সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের যে সব বিভাগ স্বাধীন স্বত্তা নিয়ে বিরাজমান থাকার কথা ছিল সেই বিভাগগুলিকে নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য নিজেদের আজ্ঞাবহ বিভাগ হিসাবেই রেখে দেওয়া হয়েছিল। তাদের সময় বিচার বিভাগ স্বাধীন ছিল না, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ছিল না, রেডিও-টিভির স্বায়ত্তশাসন ছিল না। পুলিশ বিভাগকে দলিয়করন করে শাসক দলের পেটোয়া বাহিনীতে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। বিচার বিভাগ দলিয়করন করা হয়েছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ; সবই ঠুটো জগন্নাথ হয়ে শুধুমাত্র রাষ্ট্রের বেতনভুক হয়ে শাসক দলের সব অন্যায়ের বৈধতা দিয়েছে।
আজ জাতির সামনে প্রশ্ন এসেছে, তারা সেই পুরোনো ধ্যানধারণায় ফিরে যেতে চায়, নাকি এই কায়েমি স্বার্থান্বেষী, ক্ষমতালিপ্সু স্বৈরাচারী দলগুলি থেকে মুক্ত হয়ে নতুন কিছু পেতে চায়?
ছাত্র আন্দোলনের ফলে যে জয় সূচীত হয়েছে সেই অভ্যুদয়ের প্রসব বেদনা ছিল সমগ্র অব্যবস্থা, অপশাসন থেকে মুক্ত হয়ে একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করা।
কিন্তু ছাত্র-জনতার সেই জয়ের ফসল কি তারা ঘরে তুলে নিতে পারবে?
আজ যে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে তারা যদি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের ফসল হয়ে থাকে তবে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে তা অচিরেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে, রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংস্কার অধরাই রয়ে যাবে?
এই পর্যন্ত যে সব লক্ষন দেখতে পেয়েছি তাতে সহসা আশাবাদী হতে চাই না।
বিগত সরকার জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। আমার জানা মতে সেই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করা হয় নাই। তাহলে সেনাপ্রধান সব দলের বৈঠকে জামাতের আমিরকে নিমন্ত্রন করেন কিভাবে? আরও অনেক লক্ষন দিন দিন প্রকট হচ্ছে এবং হবে।অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ছাত্র-জনতা যে ফসল ঘরে তুলেছে today or tomorrow তা সেই পুরনো ধ্যানধারণার বংশবদ রাজনৈতিক দলগুলিই ভোগ করবে।
দুই বছর হোক, তিন বছর হোক কিংবা বড়জোর পাঁচ বছরই হোক একসময় অন্তবর্তীকালীন সরকারকে নির্বাচন দিতে হবে, তখন এই ঘুঁনেধরা পুরনো দলগুলিই ক্ষমতায় চলে আসবে।
তাহলে আর লাভ কি?
তারা ক্ষমতায় এসে অন্তবর্তীকালীন সরকার অডিন্যান্স জারি করে যে সব রাষ্ট্রীয় সংস্কার করবে সেগুলোকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আবার আগের মতোই দেশ শাসন করবে।
তাই আগে দেখুন, এরপর ভাবুন। এত খুশি হবার কিছু নেই।
বাঙ্গালি স্বপ্ন দেখে ঠিকি কিন্তু স্বপ্ন ভাংগার রেকর্ড বেশি।
স্কারবোরো, কানাডা
