
বিস্তারিত- দেখে ফেললাম বাংলাদেশের ব্যাপক আলোচিত মুভি ❝সুড়ঙ্গ❞। চারদিকে এত পজিটিভ রিভিউ দেখে অবশেষে মুভিটা ডাউনলোড করলাম। টোটাল ৬ জিবি লেগেছে। মুভিটা দেখার পর ৬ জিবি উসুল হয়ে গেছে। বাংলাদেশী অনেক মুভি দেখেছি কিন্তু এমন মুভি আগে দেখি নাই। মুভিটা সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। দুই কোটি বাজেট দিয়ে এত সুন্দর সিনেমা শুধু রাফিই তৈরি করতে পারবে। রায়হান রাফির মত যদি দেশে কয়েকজন পরিচালক থাকতো তাহলে ইন্ডিয়ান মুভি দেখা বাদ দিতাম। আমার মতে গল্প, প্রেজেন্টেশন, অভিনয় সিনেমার মূল বিষয়। আফরান নিশোর অনেক কাজ আমার ভালো লেগেছে। বিশেষকরে, ❝পুর্নজন্ম❞, ❝কায়সার❞, ❝রেডরাম❞ ইত্যাদি। ৪২ বছর বয়সে বড় পর্দায় অভিষেক মানা যায় না। ক্যারিয়ারের শুরুতে যদি নাটক বাদ দিয়ে সিনেমায় সময় দিতো তাহলে ভালো হতো।
#অভিনয়- ভাবছিলাম যেহেতু এটা আফরান নিশোর প্রথম সিনেমা সেহেতু তার কাজে কিছু ভুলত্রুটি থাকবে। সবার অভিনয় মনোযোগ দিয়ে দেখতেছিলাম কিন্তু কোন ভুলত্রুটি পেলাম না। পুরো মুভি আফরান নিশো নিজের কাঁধে নিয়েছে। সিনেমার মূল হাইলাইট ছিল আফরান নিশো। পুরো মুভিতে সে অভিনয়ের মাধ্যমে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তার এক্সপ্রেশন, ডায়লগ ডেলিভারি, অ্যাকশন, অভিনয়, লুক চমৎকার ছিল। সত্যি বলতে আমি ❝সুড়ঙ্গ❞ সিনেমায় আফরান নিশোকে কোথাও খুঁজে পাইনি শুধু তার অভিনীত চরিত্র মাসুদকে খুজে পেয়েছি। আফরান নিশো একেবারে মাসুদ চরিত্রের ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। সিনেমায় বাকি অভিনেতাদের কাজ খুব ভালো ছিল বিশেষকরে তমা মির্জা এবং মোস্তফা মনোয়ার ইত্যাদি।
✅#পজেটিভ- মুভির সবচেয়ে বড় পজিটিভ হলো আফরান নিশো এবং তার অভিনয়। ফার্স্ট টাইম বাংলাদেশী কোন সিনেমাতে এত সুন্দর সিনেমাটোগ্রাফি এবং ভিজুয়াল ব্যবহার হতে দেখলাম। এটার সম্পূর্ণ ক্রেডিট পাবে সুমন সরকার। লোকেশন এবং সেট ডিজাইন চমৎকার। গান এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুব সুন্দর। ‘গা ছুয়ে বলো’ গানের দুটি ভার্সন রয়েছে। ১. রোমান্টিক, ২. স্যাড। দুইটি ভার্সনই অসাধারণ। গল্প রিলেটেবল এবং সুন্দর। স্ক্রিপ্ট রাইটিং ভালো। গল্পের স্বার্থে এবং রিয়েলস্টিক ফিল দেওয়ার জন্য গালি এবং অ্যাডাল্ট সিন ছিল। মুভিং ক্যামেরা শর্ট এবং ড্রোন শর্ট দেখতে সুন্দর লেগেছে। নিশো এবং তমার কেমিস্ট্রি ভালো ছিল। রাফির ডিরেকশন খুব ভালো ছিল। এডিটিং ভালো ছিল। ডায়লগ মনে রাখার মত ছিল। টুইস্ট আনপ্রেডিক্টেবল ছিল। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ অসাধারণ ছিল। সিনেমার পোস্টার ভালো ছিল। মুভির মেসেজ খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মুভিটা কখনো আপনাকে হাসাবে আবার কখনো কাঁদাবে।
নেগেটিভ- মুভির চার ভাগের তিন ভাগ সুরঙ্গ এবং ব্যাংক নিয়ে। আপেল খান চরিত্রটি ভালো লাগেনি। ফার্স্ট হাফ বুলেট ট্রেন সেকেন্ড হাফ গরুর গাড়ি। প্রবাসী সংগ্রাম দেখায়নি। মাসুদের ব্যাক স্টোরি দেখায়নি। আরো কিছু ইন্টারেস্টিং চরিত্র এড করা যেত।
মতামত- মুভিটা আমি খুব উপভোগ করেছি। আশা করি আপনারাও ভালো লাগবে। ব্যক্তিগতভাবে আমার ❝তুফান❞ এবং ❝সুড়ঙ্গ❞ সিনেমার মধ্যে ❝সুড়ঙ্গ❞ সিনেমাটি বেশি ভালো লেগেছে। ❝সুড়ঙ্গ❞ বাংলাদেশি মুভি হিসেবে সেরা। সবার জন্য মাস্ট-ওয়াচ।
