
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শামীম মোল্লা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোফাজ্জল আর রাংগামাটিততে অনিক চাকমাকে উগ্র কিছু মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।
কোনো অপরাধের কারণেই হোক, আর সন্দেহের কারণেই হোক, একজন নিরস্ত্র মানুষকে দলবেধে পিটিয়ে মেরে ফেলা একটা ভয়ংকর নির্দয় এবং নির্মম বিষয়।
আমাদের দেশের মানুষ কেমন করে এত নিষ্ঠুর হয়ে গেল যে সবার চোখের সামনে একদল মানুষ আরেকটা মানুষকে পিটিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে, আর সবাই তাকিয়ে দেখে, আমি জানিনা। এটা প্রথম নয়। এর আগেও ছেলেধরা সন্দেহে একজন নারীকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল। আবরারকেও মেরেছিল সহপাঠীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে প্রথম বর্ষের ছাত্রদের বা অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্রদের র্যাগিং করা হয় পিটিয়ে পিটিয়ে। যারা এটা করে তাদের ভয়ংকর মানসিক সমস্যা আছে। আমার ধারনা তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে মারামারি করা নিয়মিত রেওয়াজ। এ কেমন সমাজ!
কিন্তু রোগ হলে তো ওষুধ দিতে হবে। আইনের সর্বোচ্চ কঠিন প্রয়োগ এক্ষেত্রে করা উচিত। কঠিন আইন এবং তার দ্রুত প্রয়োগই এই নির্মমতার উত্তর হওয়া উচিত। আইনের মাধ্যমেই এসিড নিক্ষেপের মত বর্বরতা দমন করা সম্ভব হয়েছিল।
একই সাথে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমি কানাডায় Big Brother Big Sister নামে একটা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছিলাম। এই প্রতিষ্ঠানটি টিন এজ বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করে। এরা Hands Off Policy র উপর কড়া নজর রাখতো। এই পলিসির অর্থ হলো অনুমতি ছাড়া কোনো কারণেই কাউকে স্পর্শ করা যাবেনা।
কিছু কিছু টিন এজ বাচ্চা যেকোনো ফোরামে বা আলোচনায় খুব সহজে অন্য অপিনিয়ন গ্রহণ করতে পারেনা এবং এই বয়সী বাচ্চারা খুব সহজে ইমোশনাল হয়ে রেগেও যায়। কাজেই Hands Off Policy খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। কারণ difference of opinion এর কারণে এই বয়সী বাচ্চারা মারামারি করে। তাই মনোবিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞান নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদেরও বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
স্কারবোরো, কানাডা
