
গত নয় বছর ধরে টরন্টো বাংলা স্কুল বাংলাদেশী কম্যুনিটির ২য় ও ৩য় প্রজন্মের শিশুদেরকে বাংলা লিখতে, পড়তে ও বলতে শিখা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, গান, কবিতা ও নাচ শিখানো এবং খেলাধূলাসহ পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করাসহ বাংলাদেশী শিশুদের পরিবেশ ও বাংলাদেশের সাথে পরিচিত করে তুলে ধরছেন।
আমাদের পদযাত্রায় ঊদ্যোক্তাবৃন্দ ছাড়া যারা বিভিন্ন সময়ে যুক্ত হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই কালের গর্বে হারিয়ে গেছেন। যারা যুক্ত আছেন, তারা কখনো নিজেদেরকে জাহির করতে চাননি বা সর্বদাই প্রচারবিমুখ। শুধু বড় বড় অনুষ্ঠানে অক্লান্ত পরিশ্রম করা লোকজনদের দেখলেই কেবল তাদের আলাদা করা যায় কত অন্তপ্রাণ এই মানুষগুলো এই উদ্যোগটাকে বাচিয়ে রাখতে।
নবম বছরের পদযাত্রায়, যারা আমাদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আমাদের সবার সকল ধরনের ভালো কাজের সংগী জনার ব্যরিষ্টার রি্যুয়ান রহমান।টরন্টো বাংলা স্কুল সব সময় আপনার অভাব বোধ করবে। ভালো থাকবেন উপারে। অনাথ শিশুদের জন্য বাংলাদেশে আপনার যে উদ্যোগ, আপনি বেচে থাকবেন শিশুদের অন্তরে।
যারা আমাদের সাথে এখনো পৃষ্ঠপোষক হিসাবে আছেন, তারা হলেন সিপিএ মোর্শেদ নিজাম, ঢাকা কাবাবের রফিক ভাই আর খেলাধুলায় সবসময়ের সহযোগিতাকারি ফরহাদ আহমেদ মিশু ও শেন দে ভাই। তাছাড়া জনাব আখলাক ভাইকে আমরা পেয়ে থাকি সবসময় আমাদের উদ্যোগে। ACB কে পেয়েছি মিডিয়া পার্টনার হিসাবে।
আমরা অনেক অভিযোগ শুনেছি। আপনাদের প্রচার পলিসি ভালোনা। আপনারা গুনগতমান ঠিক রাখতে পারেন না, আপনারা বানান ভুল লিখেন, আপনারা আরো উদ্যোগ নেয়া উচিত। আমাদের উত্তর একটাই। আমরা বাংলাস্কুলের মুভমেন্টের সাথে আছি গত নয় বছর ধরে। নাসিমা আপা, মাসুদ ভাই, হিমু ভাই, স্বপন দাদা, সাহা ভাই সহ যারা স্বেচ্চাসেবী শিক্ষক রাফিয়া আপা, নাসরিন আপা, নাহিদা আপা, কাবেরী আপা, পপি আপা, সিপার ভাই, সাবরিনা আপা, শাহনাজ আপা, সুরাইয়া সহ তাদের অবদানের কথা আমরা কিংবা ১২০ জন শিশু যারা আমাদের সার্ভিস সরাসরি পেয়েছেন, তারা ভুলবেন না। আর আমরা ভুলবনা যে অভিভাবকরা নিরলসভাবে চেষ্টা করছেন এই স্কুলের পাশে দাড়াতে এবং তাদের বাচ্চাদের নিয়মিত স্কুলের সাথে যুক্ত রাখতে।
যারা স্কুল থেকে গ্রাজুয়েট হয়ে বের হয়ে গেছেন, তারা আমাদের সাথে এখনো স্বেচ্চাসেবী হিসাবে কাজ করছেন। আমরা উদাত্ত আহবান জানাব সকল অভিভাবকদের, আপনারা একজন স্বক্রীয় সদস্য হিসাবে আরো বেশি ভূমিকা পালন করুন। আপনারা যদি কেউ কোন বিশেষ ভূমিকা পালন করতে চান তাহলে আমরা অনেক খুশি হব। স্বার্থ ও রাজনৈতিক কলূষতার কারনে, কম্যুনিটির সহযোগিতা আমরা কখনো বেশি আশা করতে পারিনা কিন্তু অভিভাবকরা তাদের সন্তানের সাফল্যের ভাগিদার হতে পারেন।
টরন্টো বাংলা স্কুল একটি অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। আমরা নামমাত্র রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া, আমাদের সার্ভিসের জন্য শিশুদের অভিভাবকদেরকে কোন অর্থ চার্জ করিনা। উদ্যোক্তারা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে স্কুলের কার্যক্রম চালনা করেন। প্রতি বছর কমপক্ষে ৫/৬ পরিবেশ এবং বাংলাদেশ, কানাডা ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন করে থাকি যেখানে কয়েকশত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। প্রতি শনিবার ভার্চুয়াল ক্লাস ১১.৩০মিনিটে এবং ইন-পারসন ক্লাস ১২.০০ টায় ডেন্টোনিয়া ক্লাব হাউসে নেয়া হয়।
সর্বশেষে, ৯ম বছরে বাংলা স্কুল। আর কত বছর চেষ্টা করার পর আপনাকে আমাদের সাথে পাব? আমরা আছি, আমাদের চেষ্টা চলবে। তবে নিঃস্বার্থভাবে অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি। আসুন, একসাথে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করি আমাদেরই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।
বিঃদ্রঃ অনুমতি না নিয়েই অনেকের নাম উল্লেখ করেছি এবং অনেক নিরব স্বেচ্চাসেবীর নাম উল্লেখ করা হয় নাই। আশা করি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

