
একটা দেশকে পছন্দ বা অপছন্দ করার বিষয়টি রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক। এর সাথে শিল্প বা সংস্কৃতির কোনো সংঘাত নেই।
অনেক ত্যাগ, সংগ্রাম আর প্রাণের বিনিময়ে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ২০০ বছরের ইংরেজ শাসন আমরা নির্মুল করেছি। কিন্তু ইংরেজি ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিকে তারপরও আমরা ধারণ করি। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ইংরেজ সাহিত্যিকদের সাথে মিশে সাহিত্য চর্চা করেছেন। কারণ শিল্প সাহিত্যের সাধনা যারা করেন, তারা রাজনীতি আর সাম্প্রদায়িকার উর্ধে উঠে যান।
ইংরেজ শাসনের প্রতি বিদ্বেস পোষণ করা এই আমি অনেক যত্ন করে ইংরেজি ভাষা শেখার চেষ্টা করেছি, ইংরেজি সাহিত্য পড়েছি, ভালোবেসে সেক্সপিয়ারকে হৃদয়ে জায়গা দিয়েছি, শেলী – কিটস সহ আরো ইংরেজ কবিদের কবিতা পড়ে পড়ে মনের চোখে কত হাজারবার ইংল্যান্ডের গ্রামে, বন্দরে ঘুরে এসেছি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়ে ভারতের বিরাট ভুমিকা অনস্বীকার্য। একই সাথে এটাও সত্যি যে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের নির্লজ্জ অংশগ্রহণ, বাংলাদেশের সাথে ভারতের একপেশে বানিজ্যনীতি, ভারতের নির্দয় সীমান্ত অত্যাচার, অনৈতিকভাবে পানি বন্টন চুক্তি খেলাফ এবং আরো বিভিন্ন আগ্রাসনের কারণে ভারত আমাদের জন্য একটি সহায়ক প্রতিবেশী রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারেনি।
তারপরও ভারতের বাংলা সাহিত্য, বাংলা গান ছাড়া আমার প্রাণে শান্তি আসেনা (হিন্দি, গুজরাটি বা পাঞ্জাবি সাহিত্য বা গান নিয়ে বলছি না)। তাই আমিও বলি বাংলা সংস্কৃতির জয় হোক।
শেক্সপিয়ারের মত শ্রীকান্ত আচার্যেকেও আমি প্রাণে স্থান দিয়েছি। টরন্টোতে শ্রীকান্তের অনুষ্ঠান নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ হোক।
শ্রীকান্তের খোলা জানালায় বাংলা সংস্কৃতির দখিনা বাতাস আসুক, নিঝুম রাতে কোজাগরী আকাশ মনে নির্মলতা আনুক।
শ্রীকান্তের অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করছি এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।
