
সেদিন রাত প্রায় দু’টার সময় আসর শেষ হয়ে এলে আমাদের কারো কারো কাছে মনে হয়েছিল, কোন ফাঁকে এত লম্বা সময় শেষ হয়ে গেল! শুরু হয়েছিল সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ, আঙুলে গুনলে এর বিস্তৃতি সাড়ে সাত ঘন্টার কাছাকাছি–এমন দীর্ঘসময় ধ্যানমগ্ন হয়ে থাকা, কোন ঋষির পক্ষে সম্ভব হলেও হতে পারে; কিন্তু, আমাদের মতো মানুষ, যারা কিনা ক্ষণে ক্ষণে ফোনের স্কিনের দিকে না তাকিয়ে থাকতে পারি না, তারা কী অবলিলায় চারিদিকের সমস্ত কোলাহল আর আহবানকে উপেক্ষা করে গেছি। সঙ্গীত এমনই এক জাদুকরী বিষয়, যার হৃদয়ে গান আছে, সে ঋষির ধ্যানকে হার মানাবে তাতে অবাক হওয়ার কী আছে!
কয়েক সপ্তাহের টানা হিমপ্রবাহের পরে সেদিন ক্যালগারিতে উষ্ণতা একটু পক্ষপাত দেখিয়েছিল। তা যদি নাও হতো ক্ষতি ছিল না, এদেশে ঘরগুলো সারাবছর উষ্ণই থাকে। তো, সেদিন পান্নু ও পপির বাসা প্রকৃতির উষ্ণতার সাথে তাল রেখে বাড়তি কিছু হাজির করার অপেক্ষায় জেদ ধরেছিল বোধহয়। এই শহরে গর্ব করার মতো কয়েকজন গুনি শিল্পী আছে, সেই সন্ধ্যায় বেছে বেছে উপস্থিত হয়েছিল অনিন্দ্য পাল, কেকা সেনগুপ্ত আর সুদূর রেড ডিয়ার থেকে মুশফিক। অনিন্দ্য আর কেকার গানে রাতভর ডুবে থাকা যায়, তার সাক্ষী আমি নিজে, ডিসেম্বরে আমাদের বাসায় তেমন এক আয়োজনের স্মৃতি কখনো হালকা হবার নয়। সেদিন সোহাগ হাসান ছিল, আর এবার মুশফিক, গিটার তার হাতে গানের খেলনা হয়ে ওঠার সকল সম্ভাবনা নিয়েই যেন হাজির হয়। এটা প্রথম জেনেছিলাম বছরখানেক আগে ওর রেড ডিয়ারের বাসায় বেড়াতে গিয়ে। এখানে-ওখানে ট্র্যাকে গান শুনেছি, বারবার মনে হয়েছে, এই শহরের অনেক শিল্পীর মতো তার বুকেও জমে আছে আজব এক অভিমান–শ্রোতারা ঠিক ঘন হয়ে বসে শুনছে না সুরের সাথে তার মনের গহীন বনের সম্পর্কের কথা। ২২ ফেব্রুয়ারি রাত যত গভীর হয়, মুশফিক ততই যেন ডুবে যেতে থাকে সঙ্গীতের গভীরে। না ডুবে উপায় কি তার ছিল? সেই সন্ধ্যায় অনিন্দ্য আর কেকা গানকে যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে পিছু ফিরে তাকাবে, এমন সাধ্য কারই-বা হতো!
এমন সন্ধ্যা সবসময় আসে না। আসা উচিতও না। থাক না কিছু সন্ধ্যা আমাদের স্মৃতির জিম্মায় তার সমস্ত অহঙ্কার নিয়ে।
ক্রিং ক্রিং
বহুদিন আগে, ক্রিং ক্রি!
: জানু! জানু!
: বল, শুনছি!
: শনিবারের বিকেল কেন মুক্তি দেয় না, জানু, আমরা না একসাথে মুভিটা দেখব।
: ওটা মুক্তি দেবে না, র-এর গোমর ফাঁস হয়ে যাবে যে!
: সারাক্ষণ র’ আর র’; তোমাদের মগজে র’ ছাড়া আর কি কিছুই নাই, জানু!
: না, নাই, যেদিন ভারত দেশ দখল করে নিবে সেদিন বুঝবা।
: আচ্ছা, রাখছি।
বহুবছর পরে, ক্রিং! ক্রিং!
: জানু!
: বল, শুনছি!
: শনিবারের বিকেল কেন মুক্তি দেয় না। এখন ফারুকি নিজেই তো মন্ত্রী।
: হালাই ধান্দাবাজ।
: কী কও, জানু! তুমি না কইসিলা র’-এর ভয়ে মুক্তি দেয় নাই হাসিনা সরকার!
: কইছিলাম তো কী হইসে! খালি এক প্যাচাল।
: আমি প্যাচাল! তুমি কইবার পারলা?
: প্যাচালই তো, তুমি প্যাচাল, তোমার চৌদ্দগুষ্টি প্যাচাল, তোমার হাসিনা বুবু হইল প্যাচালের সর্দারনি!
: আচ্ছা, রাখছি!
