বাড়ছে হতাশা, টরন্টোর জব মার্কেটে আশার আলো নেই

করোনা মহামারির পর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং অভিবাসন বৃদ্ধির পরও টরন্টোর চাকরির বাজারে আশানুরূপ অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না

করোনা মহামারির পর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং অভিবাসন বৃদ্ধির পরও টরন্টোর চাকরির বাজারে আশানুরূপ অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে এক ধরনের স্থবিরতা, যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে।

কানাডার পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টরন্টো মেট্রোপলিটন অঞ্চলে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৯.১ শতাংশে—যা কানাডার জাতীয় গড় (৬.৯%) এবং অন্টারিও প্রদেশের গড় (৭.৫%) এর তুলনায় অনেক বেশি।

- Advertisement -

এদিকে মে মাসে টরন্টোর মোট কর্মসংখ্যান ছিল ৩.৭৩ মিলিয়ন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ বেশি। অথচ একই সময়ে চাকরির বিজ্ঞাপন সংখ্যা ছিল ২১,৩২৮টি, যেখানে গত বছর মে মাসে তা ছিল প্রায় ৪৫,০০০। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয়, চাকরির সুযোগের তুলনায় প্রার্থী সংখ্যা অনেক বেশি। বিশেষ করে অভিবাসী, শিক্ষার্থী ও পুনরায় কর্মজীবনে ফেরার চেষ্টা করা চাকরি প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র হয়ে উঠেছে।

টরন্টোর নির্দিষ্ট কিছু খাত—বিশেষত নির্মাণ, গুদামজাতকরণ এবং পরিবহন খাত—গভীর সংকটের মুখোমুখি। নির্মাণ খাতে চাকরির বিজ্ঞাপন কমেছে প্রায় ৫৮.৬ শতাংশ এবং গুদাম ও পরিবহন খাতে এই হার ৭৪.৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এছাড়া, মার্চ মাসে টরন্টোতে হাউজিং স্টার্ট ছিল মাত্র ১,২২৫টি—যা আগের বছরের তুলনায় ৬৫ শতাংশ কম। জুন মাসেও মাল্টি-ইউনিট হাউজিং স্টার্টে প্রায় ৪০ শতাংশ পতন দেখা গেছে। এসব তথ্য স্পষ্টভাবে নির্মাণ শিল্পে চাহিদার হ্রাস এবং এর প্রভাবস্বরূপ কর্মসংস্থানের সংকোচনের দিকেই ইঙ্গিত করে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার পৌঁছেছে ১৪.২ শতাংশে এবং পোস্ট-সেকেন্ডারি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি—১৭.৪ শতাংশ। এই হার ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী বেকারত্ব—অর্থাৎ যারা টানা ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চাকরি খুঁজছেন—তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১.৮ শতাংশে, যা শ্রমবাজারে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে।

জুন মাসে কানাডা জুড়ে ৮৩,১০০টি নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে, যার বেশিরভাগই পার্ট-টাইম এবং স্বাস্থ্যসেবা, ফাইন্যান্স ও হসপিটালিটি খাতকেন্দ্রিক। কিন্তু এই চাকরির সৃষ্টি টরন্টোর প্রেক্ষাপটে খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়, কারণ এখানকার চাকরি প্রার্থীরা পূর্ণকালীন ও দক্ষতা-ভিত্তিক পদের জন্য প্রতীক্ষায় রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা টরন্টোর অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এখনই জরুরি লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া।

তারা পরামর্শ দিচ্ছেন— যুব সমাজের জন্য স্কিল ট্রেনিং কর্মসূচি, নির্মাণ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার কার্যকর উদ্যোগ, সরকারি ও বেসরকারি খাতে নিয়োগে ইনসেন্টিভ ব্যবস্থা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, চাকরির মান ও নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন

এই মুহূর্তে টরন্টোর চাকরির বাজার শুধু সংখ্যা নয়, মান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার দিক থেকেও বড় এক সংকটে রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা ছাড়া এই পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হতে পারে। তাই টরন্টোর জন্য এখনই দরকার একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত পুনরুদ্ধার রোডম্যাপ। না হলে, শ্রমবাজারের এই অন্ধকার দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কাটবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

- Advertisement -

Read More

Recent