
প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে প্রার্থীতা মনোনয়নের ক্ষেত্রে লিবারেল পার্টির সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে যাদেরকে ভোটার হিসেবে যোগ্য বলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কেন, সেটি নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আছে।
কানাডার জাতীয় পর্যায়ে তিন স্তরের সরকার ব্যবস্থায় প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেখানে শুধুমাত্র ন্যূনতম ১৮ বছর বয়সী কানাডার নাগরিকদের ভোটার হিসেবে যোগ্য বলে আইনগতভাবে সিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে প্রভিন্সে লিবারেল পার্টির প্রার্থীতা মনোনয়নের ক্ষেত্রে এত ভিন্নতা কেন?
প্রভিন্সে লিবারেল পার্টির প্রার্থীতা মনোনয়নের ক্ষেত্রে কানাডিয়ান নাগরিক ছাড়াও ওয়ার্ক পারমিট, রিফিউজি ক্লেইমেন্ট, পিআর থেকে শুরু করে ১৪ বছর বয়সীদেরকেও ভোটার করা হয়েছে।
লিবারেল পার্টির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এমন পদ্ধতি নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক।
জাতীয় পর্যায়ে যেভাবে ভোট হয়, একইভাবে একই স্ট্যান্ডার্ড মেনে চললে লিবারেল পার্টির অসুবিধা কী ছিল?
এমন প্রশ্ন আমার মনেও এসেছে।
তবে এটির একটি উত্তর আমি নিজে নিজেই বের করার চেষ্টা করেছি।
কানাডার নির্বাচনে ফেডারেল পর্যায়ের নির্বাচন ছাড়া অন্যান্য নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে খুব একটা আগ্রহী হয় না। ফলে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির হার তেমন একটা আশাব্যঞ্জক হয় না। ভোট কাস্টিংয়ের হার কম থাকে।
অন্টারিওতে ভোটারদের মধ্যে ভোটদানে অনাগ্রহের প্রবণতা আরও বেশি।
২০২২ সালের প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে ভোটার টার্নআউট ছিল মাত্র ৪৩.৫%।
২০২২ সালের নির্বাচনটি বিশেষভাবে আলোচিত ছিল, কারণ এটি ছিল অন্টারিওর ইতিহাসের সবচেয়ে কম ভোটার উপস্থিতির একটি। অর্থাৎ, অর্ধেকেরও কম যোগ্য ভোটার ভোট দিতে গিয়েছিলেন।
সাধারণভাবে অন্টারিওতে ভোটার টার্নআউট কম হওয়ার কিছু কারণ হিসেবে গবেষকেরা উল্লেখ করেনঃ
১) তরুণ ভোটারদের কম অংশগ্রহণ
২)রাজনৈতিক অনাগ্রহ বা হতাশা
৩) “আমার ভোটে কিছু পরিবর্তন হবে না” — এমন ধারণা
৪) আগাম ভোট বা ভোটের নিয়ম সম্পর্কে অজ্ঞতা
৫) ব্যস্ততা ও দৈনন্দিন কাজের চাপ
ফেডারেল নির্বাচনের চিত্র প্রভিন্সিয়াল নির্বাচন থেকে একেবারেই ভিন্ন।
অন্টারিওতে ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার টার্নআউট গড়পড়তা ৬০% হয়।প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে ৬০% টার্ন আউট খুজে পাওয়া কঠিন। অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ তুলামূলকভাবে আরও কম।
উপরে যে সব তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা থেকে একটি উপসংহারে আসা যায় যে, যেখানে অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে ভোটার টার্নআউট এত কম, সেখানে একটি রাইডিংয়ের লিবারেল পার্টির প্রার্থীতা মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন একটি কাজ হওয়া স্বাভাবিক। তার মধ্যে শুধুমাত্র কানাডিয়ান নাগরিকদেরকে ভোট দিতে দেওয়ার নিয়ম রাখলে, ভোটকেন্দ্রে ভোটার পাওয়াই বেশ দুরূহ ব্যাপার হবে।
প্রার্থীতা মনোনয়নের ক্ষেত্রে এই জন্য ভোটারদের পরিধি বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভোটার টার্নআউট বেশি হওয়া সম্ভব হয়। তা না হলে কানাডিয়ান নাগরিক ছাড়াও রিফিউজি, ওয়ার্ক পারমিট, পিআর কার্ড হোল্ডারদের ভোটারে অন্তর্ভুক্ত করার অন্য কী যুক্তি থাকতে পারে?
তাই প্রার্থীতা মনোনয়নের ক্ষেত্রে লিবারেল পার্টির বিরাজমান সিস্টেম পরিবর্তন করার খুব একটা কারণ দেখি না। বড়জোর ভোটারদের বয়স ন্যূনতম ১৪ বছরের পরিবর্তে ১৮ করা যেতে পারে।
মে ৯ তারিখ স্কারবরো সাউথ ওয়েস্ট রাইডিংয়ে লিবারেল পার্টির মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ১৫০১ জন ভোটার ভোট কাস্ট করেছেন।
লিবারেল পার্টির প্রার্থীতা মনোনয়নের জন্য ভোটারদের পরিধি বৃদ্ধি করার পরেও মাত্র ১৫০১ ভোটার ভোট কাস্ট করেছিল। মোট কত সংখ্যক ভোটারের মধ্যে এই ভোট কাস্টিং হয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি।। ফলে এখানে আসলে ভোটার টার্ন আউট কি ছিল তা অজানাই থেকে যাবে।
এক্ষেত্রে শুধুমাত্র কানাডিয়ান নাগরিকরা ভোট প্রদানের বিধান রাখলে ভোটকেন্দ্রে ভোটাদের উপস্তিতি এখনকার চেয়ে অনেক কম হোত।
এই ১৫০১ ভোটের মধ্যে আহসানুল হাফিজ পেয়েছেন ৭১৮ ভোট আর নেট আরস্কিন-স্মিথ পেয়েছেন ৬৯৯ ভোট। ১৯ ভোটের ব্যবধানে জয় পরাজয় নির্ধারণ হয়েছে।
নেট আরস্কিন-স্মিথ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন এবং সেই অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আপিল করেছেন।
পরিশেষে বলবো, নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তি হওয়া ভালো।
স্কারবোরো, কানাডা
