বছরের প্রথম তুষারপাত

বছরের প্রথম তুষারপাত শুরু হলো সকাল ১১ টার দিকে

আজ সকালে জানালার ব্লাইন্ডস সরাতেই দেখলাম ,আকাশ ভরে আছে সাদা মেঘে!বছরের প্রথম তুষারপাত শুরু হলো সকাল ১১ টার দিকে!

আজ ভাইজানের জন্মদিন। ফেইসটাইমে কথা বললাম আমরা।

- Advertisement -

রাশীক/বাসমাহর  বাড়িতে নাইওর গেছিলাম গত পরশু!

আজ সকালবেলা রাশীক গাড়ির winter tire লাগিয়ে দিলো,Oil change করে দিলো, বললো , মা তোমার গাড়ি শীতের জন‍্য রেডি!দুপুরের পর পরই যখন আমি আর রাইয়ান ফিরছিলাম, হাইওয়ের গাড়িগুলো ধীরে ধীরে চলছিল।কেউ কেউ এখনো বরফের জন্য প্রস্তুত নয়।আকাশ থেকে ঝরছিল সাদা ফুলের মত  তুষার!

একটু আগে দরজা খুলে দেখি কয়েক ঘন্টার মধ্যেই চারপাশ যেন এক সাদা বরফের সমুদ্র হয়ে গেছে!পার্কিং লটের গাড়িগুলো আধা ডুবে আছে বরফের কোলে!আর জানালার বাইরে এক অদ্ভুত শান্ত পৃথিবী।

আবারও শুরু হলো শীতের পরিক্রমা !

৩৩ বছর কেটে গেছে,তবু এমন দিন এলে মনে হয়,যদি দেশে ফিরে যাওয়া যেতো!ছাদের উপর এক চিলতে রোদে বসে চা খাওয়া! বিকেলের হাঁকডাক, মানুষের উষ্ণতা!

আসলে, বাবা মা না থাকলে,যে কোনো দেশই অচেনা হয়ে যায়।সব পথই বিরাণ মনে হয়,সব শহরেই হাহাকার লেগে থাকে।শূন্য মনে হয় !

এমন দিনে মনে পড়ে ফুলকপি, শিম আর আলু ভাজি(যাতে টাটকা ধনিয়া পাতার মউমউ গন্ধ),সাথে সিদ্ধ আটার রুটির সকাল !

মোটা চালের গরম ভাত,বেগুন ভাজি,আর টাকি মাছের ভর্তার গন্ধে ভরে থাকা দুপুর!

সেই বাড়ি, প্রিয় মানুষগুলো,সেই সময়,সব যেনো এখন বরফের নিচে চাপা পড়া স্মৃতি।

আসলে যত দোষ বরফের!এমন দিনে মনটাকে পাখির মতো উড়িয়ে নিয়ে যায়,কোথা থেকে যে কোথায়!

অতীতের উঠোনে!

বাবার হাসি, মায়ের আদরে, ভাইবোন, বন্ধুদের মায়ায় ফিরে যায় মন,

এক মুঠো উষ্ণতার খোঁজে!

অথচ, আর ফেরার উপায় নেই!

কোন জানালায় আর কেউ নেই অপেক্ষায়!

 

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent