
কানাডার আবাসন খাত নিয়ে পূর্বের আশাবাদী অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে টিডি ইকোনমিকস। সংস্থাটি তাদের সর্বশেষ বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বাড়ি বিক্রি ও দামের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আগের পূর্বাভাস আর বাস্তবসম্মত নয়। বরং সামগ্রিকভাবে বাজারে মন্দাভাবই প্রাধান্য পাবে।
টিডি ইকোনমিকসের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কানাডায় বাড়ি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় গড়ে ১.৮ শতাংশ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে বাড়ির গড় মূল্যও সামান্য কমে প্রায় ০.৩ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।
এই পূর্বাভাসটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মাত্র কয়েক মাস আগেই গত ডিসেম্বরে সংস্থাটি সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছিল। তখন তারা বলেছিল, ২০২৬ সালে বাড়ি বিক্রি ২০২৫ সালের তুলনায় ৯.৩ শতাংশ বাড়বে এবং গড় মূল্য বৃদ্ধি পাবে ৪.১ শতাংশ।
টিডির অর্থনীতিবিদ ঋষি সন্ধি জানিয়েছেন, বছরের প্রথম প্রান্তিকে আবাসন বাজারে যে দুর্বলতা দেখা গেছে, তা পুরো বছরের প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তার মতে অর্থনৈতিক ধীরগতি, উচ্চ অনিশ্চয়তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এই তিনটি প্রধান কারণ বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে, বছরের বাকি সময় মূলত প্রথম প্রান্তিকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই চলে যাবে, নতুন করে বড় কোনো প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে না।
আগের পূর্বাভাসে অন্টারিও ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়াকে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু নতুন বিশ্লেষণে সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে। অন্টারিও: বাড়ি বিক্রি ৩.২% কমতে পারে (আগে বাড়ার পূর্বাভাস ছিল ১৩%), গড় মূল্য কমতে পারে ৪% (আগে ০.৬% বাড়ার কথা বলা হয়েছিল) এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়া: বিক্রি কমতে পারে ০.২% (আগে ১৫.১% বৃদ্ধির পূর্বাভাস), গড় মূল্য কমতে পারে ১.২% (আগে ৩.৬% বাড়ার কথা বলা হয়েছিল)। এই পরিবর্তনগুলো স্পষ্ট করে যে, দেশের সবচেয়ে সক্রিয় দুই আবাসন বাজারেই এখন চাপ তৈরি হয়েছে।
যদিও ২০২৬ সালকে তুলনামূলক দুর্বল বছর হিসেবে দেখা হচ্ছে, টিডি ইকোনমিকস ২০২৭ সালের জন্য কিছুটা আশাবাদী। তাদের মতে বাড়ি বিক্রি বাড়তে পারে ৯.৬% এবং গড় মূল্য বাড়তে পারে ২.৭%। এতে বোঝা যায়, বর্তমান মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, বরং এটি একটি সাময়িক সমন্বয় পর্যায়।
কানাডার আবাসন বাজার ২০২৬ সালে একটি ‘কুলিং ফেজ’-এর মধ্যে দিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উচ্চ সুদের হার, ব্যয়বহুল জীবনযাপন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। বাজার এখন স্থিতিশীল হওয়ার পথে তবে তাৎক্ষণিক কোনো বড় উত্থান প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি সতর্কতার সময়, যেখানে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আরও বিচক্ষণতার সঙ্গে।
