
কয়েক বছর আগেও সামান্য দাগ পড়া শশা, একটু নরম হয়ে যাওয়া কলা কিংবা রঙ হারানো ব্রোকোলির দিকে ফিরেও তাকাতেন না অনেক ক্রেতা। খাবারের প্যাকেটের গায়ে “সর্বোত্তম ব্যবহারের” মেয়াদ ঘনিয়ে এলে তো সেই পণ্য প্রায় অচলই হয়ে পড়ত। কিন্তু সময় বদলেছে। আর সেই বদলের সবচেয়ে বড় কারণ অস্বাভাবিক খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি।
যখন ছাড়মূল্যের গ্রোসারি স্টোর চালু হয়, তখন অনেকেই ব্যবসায়িক ধারণাকে সন্দেহের চোখে দেখেছিলেন। গ্রাহকদের বড় একটি অংশ ভাবতেন, এসব পণ্য মানহীন কিংবা ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে দোকানে আসা অনেক ক্রেতাই পণ্য দেখে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই একই দোকানে ভিন্ন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এখন সামান্য ত্রুটিযুক্ত কিংবা মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি থাকা পণ্যগুলোই সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। কারণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প খুঁজছেন মরিয়া হয়ে। আগে মানুষ এসব পণ্য নিতে চাইতেন না। এখন তারা জানতে চান আরও আছে কি না।
এধরণের অসংখ্য দোকানে বর্তমানে কম দামে বিক্রি হওয়া কৌটাজাত খাদ্য, সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত সবজি কিংবা উৎপাদন ত্রুটিযুক্ত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এমনকি মাত্র ৮৮ সেন্টে এক ট্রে ডিম বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হলে মুহূর্তের মধ্যেই তাক খালি হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক গ্রাহক এখন প্রতি ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কেনার সীমা নির্ধারণের অনুরোধ করছেন। কারণ, কিছু মানুষ একসঙ্গে বেশি কিনে নেওয়ায় অন্যরা পণ্য পাচ্ছেন না। একজন উদ্যোক্তা মেরি জনসন বলেন, “প্রত্যেকেই এখন সাশ্রয়ের সুযোগ নিতে চান।”
কানাডায় খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির হার এখনও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ব্যয়ের বড় অংশ এখন খাবারের পেছনে চলে যাচ্ছে। এই চাপ সামাল দিতে অনেকেই ঐতিহ্যগত সুপারশপের পরিবর্তে ডিসকাউন্ট ও লিকুইডেশন স্টোরের দিকে ঝুঁকছেন। যদিও এসব পণ্যের ক্ষেত্রে কিছুটা মানগত ছাড় দিতে হচ্ছে, তবুও অধিকাংশ ক্রেতার কাছে সেটি এখন গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা সীমিত আয়ের মধ্যে পরিবার চালান, তাদের জন্য কম দামে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পাওয়া বড় স্বস্তির বিষয়।
মেরির ব্যবসায়িক সাফল্যও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন। জিটিএ তার মালিকানাধীন ৫টি স্টোর রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকই চালু হয়েছে গত তিন বছরে যে সময়টিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি ছিল। তবে এখানেই থামতে চান না তিনি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও কয়েকটি নতুন শাখা খোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বছরের শেষে মোট ১০ থেকে ১১টি স্টোরের মালিক হবেন তিনি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা শুধু একটি ব্যবসার সাফল্যের গল্প নয়; বরং এটি বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। যেখানে মানুষ ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় নিজেদের ভোক্তা-অভ্যাস বদলে ফেলছেন। একসময় যে পণ্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ মনে করা হতো, আজ সেটিই অনেক পরিবারের খাবারের টেবিল বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে।
রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার
