
তবু তোমাকেই মনে পড়ে!
সেই তুমি!
বহু জন্মের চেনা এক নাম,যার উচ্চারণে আজো বুকের ভিতর নরম বৃষ্টি নামে।আমি তোমাকে মনে করি!
দিনের শেষে, রাতের গভীরে,অথবা মানুষের ভিড়ে হঠাৎ একা হয়ে গেলে,
বিষণ্ন হই তোমার জন্য!কারণ তুমি শুধু একজন মানুষ নও,তুমি ছিলে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভ্যাস!প্রথমবার তোমাকে যেবার ভালোবাসি বলেছিলাম,সেই সিঁদুর রং বিকেলটা আজও আমার ভেতরে জ্বলছে।দীপশিখার মতো টলমল করে জ্বলতে থাকা সেই প্রেম আজো রয়ে গেছে!সময় তাকে পুরনো করেছে,কিন্তু শেষ করতে পারেনি!
আসলে কিছুই ফুরায় না।
না ভালোবাসা!না অপেক্ষা!
না একসাথে কাটানো বিকেলের স্মৃতি!মানুষ দূরে সরে যায়,আর স্মৃতিগুলো আরও গভীরে বসে যায়, হৃদয়ের ভিতর!
রবি ঠাকুরের, “শেষের কবিতা”র অমিত আর লাবণ্যের মতো,আমাদের ভালোবাসাও ছিল দীঘির জলের মতো গভীর!স্থির, শান্ত, অথচ অতল!সেখানে শব্দ কম ছিল,অনুভূতি বেশি।
একজন আরেকজনকে ছুঁয়ে থেকেও পুরোপুরি পাওয়া হয়নি কখনো।তবু সেই না পাওয়ার মাঝেই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি!
আজ এত বছর পরও যখন সন্ধ্যা নামে,দূর থেকে কোনো বাঁশির শব্দ ভেসে আসে অথবা হঠাৎ পুরোনো কোনো গান শুনি,তখন মনে হয়,তুমি এখনো কোথাও আছো!
হয়তো অন্য আকাশের নিচে,অন্য ঠিকানায়!
তবু আমার স্মৃতির ভেতর তুমি ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছো।
নদীর পারের নরম বাতাস,জলের ভিতর চাঁদের কাঁপা প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে এখনো চুপচাপ বসে থাকি!
কত রাত যে অপেক্ষায় কাটে!
হয়তো তুমি আসবে!হয়তো একবার ডাকবে নাম ধরে,হয়তো বলবে,এতদিন পরেও তুমি অপেক্ষায় আছো?
জীবনের যেসব দিন শুধু তোমাকে ভেবে কেটে গেছে,সেগুলো কি সত্যিই হারিয়ে গেছে?
হারায়নি!কারণ জীবনের এই অদ্ভুত দিনগুলো কখনো হারিয়ে যায় না।সেগুলো মানুষের ভিতর নদীর জলের মতো ধীরে বয়ে যায়!নীরবে!
বুকের গভীরে!
জানো তো,ভালোবাসা আসলে শেষ হয় না।কখনো স্মৃতি হয়ে,কখনো বা গভীর রাতের নীরবতায় দীর্ঘশ্বাস হয়ে জুড়ে থাকে!
আর কখনো তার নাম না নিয়েও সারাজীবন তাকে মনে রাখা যায়,
অজস্র নামে!
(অতল ভালোবাসা)
অটোয়া, কানাডা
