
ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখে আমি লিখেছিলাম, “মাঝে মাঝে জীবনটাকে ছোট্ট ঘাসফুলের মতো লাগে। অথচ সেই ঘাসফুলের মতো জীবনেও কত আনন্দ যে বয়ে যায়!” আজ মনে হচ্ছে, সেই কথাগুলো যেন আরও গভীরভাবে সত্য হয়ে উঠেছে।
আমাদের প্রিয় বাসমাহ,আমার বড় ছেলে রাশীকের বউ,৫ ফেব্রুয়ারি সফলতার সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছে। আলহামদুলিল্লাহ।
ওর অভিসন্দর্ভ (Thesis) এর বিষয় ছিল,”Canadian Literature and Diasporic Literatures in Canada.” এরই মধ্যে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কিংসটনের Queen’s University তে শিক্ষকতাও করেছে।
গত ২৪ জুন ছিল ওর পিএইচডি কনভোকেশন।আগের রাতেই আমরা কিংসটনে গিয়ে ওর মা বাবার বাসায় উঠেছিলাম।সমাবর্তনের সেই আনন্দঘন মুহূর্তে গ্যালারিতে বসেছিলাম আমরা,ওর গর্বিত মা বাবা, রাশীক, আমি এবং রাইয়ান।
সেই মুহূর্তে বারবার মনে পড়ছিল রাশীকের বাবার কথা।সে যদি আমাদের মাঝে থাকতো, কতই না খুশি হতো!কত ছবি তুলতো,আর Tim Hortons এ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বসে গর্বভরে সবার কাছে দেখাতো।
অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বাসমাহর মা বাবা, ফুপা, ফুপু এবং পরিবারের সকল সদস্যকে।তাদের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থনের ফলেই আজকের এই গৌরবময় অর্জন আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।
প্রিয় বাসমাহ,
তোমার জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা, দোয়া আর অফুরন্ত ভালোবাসা, মা।সবসময় হাসিখুশি থেকো, আনন্দে থেকো।জীবন ভরে উঠুক আরও সাফল্য, শান্তি আর সুন্দর সব অর্জনে।তোমার প্রতিটি স্বপ্ন পূরণ হোক।
শিক্ষকতা যদি তোমার পথ হয়, তবে তুমি যেন একজন জ্ঞানী, মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষক হতে পারো,এই দোয়াই করি।
বাসমাহর একটি কথা আমার খুব ভালো লাগে, “ছেলেমেয়েরা যদি তাদের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পায়, তাহলে তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে পরিবারের সহযোগিতা তাদের অনেক দূর এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।”
কথাগুলো সত্যিই গভীর ও অনুপ্রেরণাদায়ক।যদিও উন্নত দেশে নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া যতটা সহজ, আমাদের দেশে তা সম্ভব না! বিশাল প্রতিযোগীতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় ছাত্রছাত্রীদের।
আবারও বলতে ইচ্ছে করছে, জীবন সুন্দর, আর বেঁচে থাকা সত্যিই দারুণ ব্যাপার।
Congratulations, dear Dr. Basmah Rahman.
