
কোথাও গেলে ল্যাপটপ নিতে ইচ্ছে করে না; বিমানবন্দরের সিকিউরিটি ওটার মধ্যে যে কী খোঁজে কে জানে, কিন্ত, কী আজব চোখে তাকায়। তো ল্যাপটপ নাই তো, ফেসবুকও নাই। ফোনে ফেসবুক রাখি নাই। ২৯ অক্টোবর যখন উইসকনসিনে পৌঁছলাম, আকাশে রোদ ঝলমল করছে, পরদিন একটু বৃষ্টি নামলো, শুনলাম, পাশের শহরে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসেছে। টিভিতে দেখলাম, গার্বেজ ক্লিনারের ড্রেস পরে তিনি ট্রাক চালাচ্ছেন। আশেপাশের লোকজনদের বললাম, ট্রাম্প জিতবে। অনেকে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ায়। উইসকনসিনে ট্রাম্প জিতেছিল। ৎ
১ নভেম্বর গেলাম শিকাগো, সেখান থেকে ৫ তারিখে নিউ জার্সি-নিউ ইয়র্ক। এই তিন জায়গায় ট্রাম্প ভালো করলেও জিততে পারেনি। তাতে কী? পুরো আমেরিকায় ট্রাম্পের জয়জয়কার। আমি উল্লসিত। ২০১৫ সাল থেকেই আমি ট্রাম্পের পক্ষে ওকালতি করে আসছি। তখন খুব কম মানুষ তাঁকে পছন্দ করতো, ২০১৬-২০ চারবছর ক্ষমতায় থাকার পরেও অনেক মানুষ তাঁকে ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি, আশা করছি, এবার পারবে।
মার্কিনীদের অনেককে হাসতে হাসতে বললাম, আমরা বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিস্ট বিদায় করলাম, আর তোমরা কিনা একজন ফ্যাসিস্টকে ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট বানালে। তারা হাসতে হাসতে বলে, ডেমক্রেটদের কথা আর বলো না, তারা রাজনীতিতে না পেরে প্রতিপক্ষকে ফ্যাসিস্ট বলে গালি দিচ্ছে। বললাম, এই সমস্যা আমাদের দেশেও প্রকট। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ শুধু যে শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বলছে তা তো না, পুরো দল, এমনকি শেখ হাসিনার সমর্থকদেরও ফ্যাসিবাদের দোসর বলে গালি দিচ্ছে এবং সুযোগ পেলে গায়ে হাত তুলছে। ভদ্রলোক অনেকটা সময় চুপ থেকে বললেন, আসল ফ্যাসিবাদ যে কী জিনিষ সেটা আমরা ইতালিয়রা জানি, ওই শব্দ উচ্চারণই করা যেতো না। জানতে চাইলাম, ট্রাম্প যদি এখন সত্যসত্য ফ্যাসিস্টদের মতো আচরণ করে, তাহলে কি দোষ দেয়া যাবে? বললেন, না, সেটা তিনি করবেন না। বরং, যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য সবদিক দিয়ে চেষ্টা করবেন। আর আমেরিকান মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। বললাম, শেখ হাসিনারও একই সংকট; বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আর বার্মার সাথে যুদ্ধ এড়ানো। ভদ্রলোক বললেন, এমনই তো হওয়া উচিত।
৭ তারিখে সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটে গেলাম। হঠাৎ নজরে পড়লো কিছু বাঙালি মিছিল করছে। আরে বাপস, রাস্তায় মিছিল! কাছে গিয়ে দেখলাম, বিএনপির মিছিল। তারা বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করছে। মধ্যবয়স্ক একজনের কাছে জানতে চাইলাম, ভাইজান কি ট্রাম্পকে ভোট দিছেন? বলল, আরে না! ট্রাম্প তো আওয়ামী লীগ করে। জানতে চাইলাম, আর কমলা? তার সহজ জবাব, কমলা বিএনপি! এই হলো আমাদের সহজ-সরল বাঙালিদের মনের কথা। অথবা, বলা যায়, রাজনৈতিক বোধ।
ক্যালগেরি, আলবার্টা
