
ক্রিসমাস ডে’র শ্বেতশুভ্র সকালে আমার দিদি ও দাদার বাসায় ছিল ব্রেকফাস্টের আমন্ত্রন। বরাবরের মতন আমি লেট লতিফ। লাসালে পৌঁছাতে বেলা ১১টা বেজে গেল।
দিদি ও দাদা জানেন আমার সময়-জ্ঞানের দৌড়। তাই কিছুই বললেন না। জ্যাকেট হ্যাং করে সোজা ডাইনিংয়ে।
টেবিল দেখে চোখ ছানাবড়া!
পুরো টেবিলের এক ইঞ্চি পরিমান জায়গা খালি নেই। নানান পদের কেক,পেস্ট্রি, স্যান্ডউইচ,কুকিজ,ব্রেড,সুশি, বার্গার,চীজ, জেলি, ডোনাট, ক্রোসান, ফ্রুটস, হানি,মিস্টান্ন, জুসসহ আরো কত কি। খাবারের বৈচিত্র্য দেখে আমার শান্তি। কিন্ত খাবারের বেলায় আমি স্বল্পাহারী।
পছন্দের সুশি, ফিলে ফিশ,চিকেন স্লাইস,কেক খেয়ে দাদার হাতের বিখ্যাত চা পান করতে করতে অনেকদিন পর দাদা,দিদি ও বড়ভাগ্নি তোরসাসহ জমিয়ে লম্বা আড্ডা হলো। এবার ছোটভাগ্নি র্তীথার সাথে তেমন আড্ডা হলো না। ও সোফায় বসে একমনে ছবি আঁকায় ব্যস্ত ছিল। ছবি আঁকায় ওর হাত দারুণ। সম্প্রতি আঁকাআঁকিতে র্তীর্থা যথেস্ট পরিনত ও পারদর্শী হয়ে উঠেছে। বেশ ক’টি ছবি দেখে তাই মনে হলো।
ক্রিসমাস ও নিউইয়ারের লম্বা ছুটিতে সময় কাটানোর জন্য লাইব্রেরি হতে তোরসা ৪১ টি বই নিয়ে এসেছে। আগামী কয়েকদিনে ওর পড়ার বইগুলো দেখে আমার খুবই ভাল লেগেছে। ইতিহাস, সংস্কৃতি,বিজ্ঞানের প্রতি ওর ঝোঁক। র্তীথার এবারের পড়ার তালিকা থেকে বেশ ক’টি বই আমার মনযোগ কেড়েছে।এর মধ্যে history of Europe, The last mughal, mahabharat, Black hole সহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বইগুলো। আমাদের বাচ্চাদের ইতিহাস,সংস্কৃতি, বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ দেখে আনন্দে মন ভরে গেল।
অন্যত্র একটু তাড়াহুড়ো থাকায় দুপুরের আগেই আমাকে আড্ডা সংক্ষিপ্ত করে রণে ভঙ্গ দিতে হল। ভাগ্নিরা মামাকে ক্রিসমাসের গিফট দিতে ভুলেনি। অনেক ভালবাসা মামারা।
নতুন বছর তোমাদের জন্য বয়ে আনুক অনেক আনন্দ ও মঙ্গল। দিদি ও দাদা আপনাদের জন্য রইলো অনেক শুভকামনা।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা


