
কানাডার অন্টারিওতে প্রাদেশিক পার্কগুলোতে অ্যালকোহল পানের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে প্রাদেশিক সরকার। ৬৮০ নিউজরেডিও-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুম থেকেই পার্কের অধিকাংশ এলাকায় বিয়ার, ওয়াইন ও স্পিরিট পান করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
এখন পর্যন্ত অন্টারিওর প্রাদেশিক পার্কগুলোতে অ্যালকোহল পানের অনুমতি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট ক্যাম্পসাইটের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এই সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়ে পার্কের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে যেমন পিকনিক স্পট এবং সমুদ্র সৈকত অ্যালকোহল সেবনের অনুমতি দেওয়া হবে। এতে দর্শনার্থীরা নির্বাচিত কিছু পার্কে নিজেরা অ্যালকোহল নিয়ে আসতে পারবেন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পার্কের ভেতর থেকেই তা কেনার সুযোগও পেতে পারেন।
এই পরিবর্তনের পেছনে মূল লক্ষ্য হিসেবে সরকার বলছে পার্কে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করা এবং স্থানীয় পর্যটনকে উৎসাহ দেওয়া। এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন টড ম্যাকার্থি, যিনি অন্টারিওর পরিবেশ, সংরক্ষণ ও পার্ক বিষয়ক মন্ত্রী। তিনি বলেন, “এটা ২০২৬ সাল। এখন নাগরিকদের সঙ্গে শিশুদের মতো আচরণ করার সময় নয়। আমরা বিশ্বাস করি মানুষ দায়িত্বশীল আচরণ করবে।”
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে অ্যালকোহল সেবনের অনুমতি বাড়ালে কি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে? এ বিষয়ে মন্ত্রী ম্যাকার্থি বলেন, সরকার এই পরিবর্তনকে সরাসরি ডুবে যাওয়ার ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দেখছে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা অ্যালকোহল পান করবেন, তাদের সাঁতার না কাটাই উচিত এটি ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের বিষয়।
সরকার স্পষ্ট করেছে, অ্যালকোহল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বহাল থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে : জনসমক্ষে মাতলামি, অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যালকোহল গ্রহণ এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি বা নৌযান চালানো। মন্ত্রী জানান, প্রদেশজুড়ে প্রায় ৫৫০ জন পার্ক ওয়ার্ডেন রয়েছে, যারা ওপিপির কর্মকর্তাদের মতোই আইন প্রয়োগের ক্ষমতা রাখেন। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই পদক্ষেপকে অনেকেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রসার হিসেবে দেখছেন, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সমালোচকরা মনে করছেন এতে পারিবারিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা কিছুটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, বিশেষ করে শিশুদের উপস্থিতিতে। অন্টারিও সরকারের এই উদ্যোগ একদিকে পর্যটন ও বিনোদন সংস্কৃতিকে আধুনিক করার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে এটি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর একটি বড় আস্থার পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
