
একটি স্নো রিমুভাল ও ল্যান্ডস্কেপিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা বেতন বকেয়ার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কোম্পানিটির সাবেক কর্মীরা আশা করছেন, চলমান সরকারি তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে অবশেষে তারা তাদের প্রাপ্য অর্থ ফেরত পাবেন। গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভনভিত্তিক একটি ল্যান্ডস্কেপিং ও স্নো রিমুভাল কোম্পানির একাধিক কর্মী অভিযোগ করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কয়েক হাজার ডলার করে বকেয়া বেতন পাননি। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন নামে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে, যার মধ্যে স্নো প্রস লিমিটেড এবং গ্রাস গাইস অন্যতম।
সে সময় কোম্পানির মালিক দাবি করেছিলেন, কর্মীদের পাওনা পরিশোধ করতে প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি করা হবে। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করছেন সাবেক কর্মীরা। তাদেরই একজন লুইস কন্ট্রেরাস। তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন এমপ্লয়মেন্ট স্ট্যান্ডার্ডস অফিসারের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ পেয়েছেন। সেখানে তার প্রাপ্য বকেয়া বেতনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ডলার।
কন্ট্রেরাসের মতো আরও অন্তত ১১ জন সাবেক কর্মী শ্রম মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। একজন সাবেক কর্মী বলেন, বিষয়টি শুধু কয়েকজন কর্মীর বেতন আটকে যাওয়ার ঘটনা নয়, বরং এটি একটি গুরুতর শ্রম অধিকার ইস্যু। তার ভাষায়, “সরকার যদি পাওনা নির্ধারণ করেও দেয়, তারপরও সেই অর্থ আদায় করতে আমাদেরই দৌড়ঝাঁপ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত যদি অর্থ কোথায় গেছে বা কীভাবে আদায় করা সম্ভব তা খুঁজে বের করা না যায়, তাহলে হাতে কিছুই আসবে না।” এদিকে তদন্তে জানা গেছে, রায়ান হান্টারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ওয়াইএলএএসপি নামে এখনও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
কন্ট্রেরাসের কাছে পাঠানো শ্রম মন্ত্রণালয়ের পাওনা পরিশোধ সংক্রান্ত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তকারীরা অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে একাধিকবার কোম্পানির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো উত্তর দেননি। পরে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে রায়ান হান্টার টেক্সট বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, কর্মীদের অভিযোগ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার ফল এবং এর পেছনে রয়েছে ব্যবসায়িক দুর্ভাগ্য। তার মতে, অনেক গ্রাহক সময়মতো বিল পরিশোধ করেননি, আবার কেউ কেউ একেবারেই অর্থ দেননি। ফলে প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থপ্রবাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে কর্মীদের বেতন পরিশোধের ওপর। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মচারী নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। যেসব বেতন বকেয়া রয়েছে, সেগুলো মূলত চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি অথবা তার আগের সময়ের। ওই বকেয়া পরিশোধের জন্য তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছেন বলেও দাবি করেন।
এই ঘটনাটি আবারও কানাডার শ্রমবাজারে কর্মীদের অধিকার, বকেয়া বেতন আদায়ের প্রক্রিয়া এবং নিয়োগকর্তার জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পাওনা নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; বাস্তবে সেই অর্থ কর্মীদের হাতে পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সম্পদ সরিয়ে ফেলে, নতুন নামে ব্যবসা চালিয়ে যায় অথবা আর্থিক দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য আইনি লড়াই আরও জটিল হয়ে ওঠে। বর্তমানে সাবেক কর্মীদের একটাই প্রত্যাশা সরকারি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহুদিনের বকেয়া অর্থ যেন অবশেষে তাদের হাতে পৌঁছায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার
