ট্যাবলেটের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করেছে মায়া গেবালা

Purple bike resting beside a flower-filled planter in front of a pump track sign at a forest park edge.
মায়ার মা সিয়া এডমন্ডস জানিয়েছেন গত এক সপ্তাহে তার মেয়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি অভাবনীয়

প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার কয়েক মাস পর অবশেষে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে ১২ বছর বয়সী মায়া গেবালার পরিবার। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কানাডার টাম্বলার রিজে সংঘটিত ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছে মায়া। এবার তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতির খবর জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মায়ার মা সিয়া এডমন্ডস জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে তার মেয়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি অভাবনীয়। সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, মায়া এখন একটি ট্যাবলেটের সাহায্যে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে।

- Advertisement -

এডমন্ডস বলেন, প্রথমে মেয়ের জন্য “হ্যাঁ” এবং “না” বোঝানোর জন্য বিশেষ বাটন সেট করে দেওয়া হয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মায়া সেগুলো ব্যবহার করতে শিখে যায়। পরে তার আইপ্যাডে এমন একটি নন-ভারবাল কমিউনিকেশন অ্যাপ ইনস্টল করা হয়, যার মাধ্যমে আরও স্পষ্টভাবে নিজের অনুভূতি ও প্রয়োজন প্রকাশ করতে পারছে সে।

মায়ের কথায়, “এটা সত্যিই কাজ করেছে। ওর প্রতিক্রিয়া, সাড়া দেওয়া সবকিছুতেই পরিবর্তন এসেছে। এখন আগের তুলনায় অনেক ভালোভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে।”

কয়েকদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে সিয়া এডমন্ডস জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ চিকিৎসার পর অবশেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে মায়া। ফেব্রুয়ারির সেই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিল সে।

তবে এই সুস্থ হয়ে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না। মায়ার শরীরে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ছিল একটি প্রোস্থেটিক খুলি (কৃত্রিম খুলির অংশ) প্রতিস্থাপন। চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগোচ্ছে ছোট্ট মেয়েটি।

পরিবারের দাবি, হামলার সময় মায়ার শরীরে তিনটি গুলি লাগে। মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তার জীবন নিয়ে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সেই সংকট কাটিয়ে উঠলেও এখনও তার সম্পূর্ণ সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি টাম্বলার রিজে সংঘটিত ওই মর্মান্তিক বন্দুক হামলায় মোট আটজন প্রাণ হারান। আহত হন আরও কয়েকজন। সেই ঘটনার সবচেয়ে কনিষ্ঠ গুরুতর আহতদের মধ্যে ছিল মায়া। কয়েক মাসের কঠিন চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর তার যোগাযোগের সক্ষমতা ফিরে পাওয়া শুধু পরিবারের জন্যই নয়, চিকিৎসকদের কাছেও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এখনও অনেকটা পথ বাকি থাকলেও মায়ার প্রতিটি ছোট অগ্রগতিই তাদের নতুন করে বাঁচার সাহস জোগাচ্ছে। চিকিৎসকরাও আশাবাদী, নিয়মিত থেরাপি ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে আগামী দিনে মায়ার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার আরও উন্নতি হবে।

- Advertisement -

Read More

Recent