সাংবাদিকতায় আমার টার্নিং পয়েন্ট

ছবিভায়া গেটি ইমেজ

ক্রীড়া সাংবাদিকতায় আমার টার্নিং পয়েন্ট সম্ভবত: বেইজিং এশিয়ান গেমস। দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে সবচে’ কম বয়সী সাংবাদিক হিসেবে আমি সরকারী ডেলিগেট হয়ে এ গেমস কভার করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেবার সরকারি খরচে আমার সাথে আরো পাঁচজন সাংবাদিক যান গেমস কভার করতে। দৈনিক বাংলার মাসুদ আহমেদ রুমি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাসসের শাহজাহান মিঞা, ইউনাইটেড নিউজ এজেন্সির (ইউএনবি) মোস্তফা কামাল, পাক্ষিক ক্রীড়াজগতের খন্দকার তারেক এবং দৈনিক জনতার মোস্তফা দানেশ। আমি তখন বাংলার বাণীতে এবং ক্রীড়া সাংবাদিকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ম-সম্পাদক। অনেক মজার ট্যুর এটি যেমন ছিলো, তেমনি এশিয়ান গেমসের মতো বড়ো আসরে গিয়ে বিশ্বের অনেক নামি-দামি সাংবাদিকের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছিলো। আর হয়েছিলো বলেই বেইজিং এশিয়াডের পর আন্তর্জাতিক গেমস, টুর্ণামেন্ট কভার করতে দেশের বাইরে যাওয়া অনেকটাই যেনো রুটিনে পরিণত হয়েছিলো। গড়ে প্রতি ছ’মাসে দেশের বাইরে ঘুরে বেড়িয়েছি নানা খেলার আন্তর্জাতিক গেমস ও টুর্ণামেন্ট কভার করতে।
সে যাইহোক, চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এশিয়াড হলো নব্বুয়ের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। আঠারো দিনব্যাপী গেমসে বাংলাদেশ এ্যাথলেটিক্স, ফুটবল, কাবাডি, জুডো, কুস্তি, টেনিস, ভারত্তোলন, সাঁতার, বক্সিং ও শুটিংয়ে ৫৮জন ক্রীড়াবিদ অংশ নেন। যতোটুকু মনে পড়ে, ১৭ সেপ্টেম্বর আমরা রওয়ানা হলাম বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে।
আব্দুর রহিম এমপি দলনেতা। ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ। অমায়িক ভদ্রলোক। বাংলাদেশ বিমানে চড়ে ব্যাংকক। সেখান থেকে চায়নিজ এয়ারলাইন্সে বেইজিং। আগে ধারণা ছিলো না এ এয়ারলাইন্স সম্পর্কে। একেবারে ঢাকার মুড়ির টিন বাসের মতো। তাই ভ্রমণটা খুব আরামদায়ক ছিলো না। কিন্তু তাতে কী! এত অল্প বয়সে সরকারি দলের ডেলিগেট নির্বাচিত হয়ে এশিয়াড কভার করতে যাচ্ছি সে আনন্দতেই মিলিয়ে গিয়েছিলো সব ধরনের ক্লান্তি।
বেইজিং পৌঁছালাম সন্ধ্যায়। আমাদের সাংবাদিকদের জন্য ফাইভ স্টার হোটেল আর খেলোয়াড় কর্মকর্তাদের জন্য গেমস ভিলেজ। ২৩ দিনের চীন সফরে প্রথম এক সপ্তাহ আমরা কিছুই খেতে পারছিলাম না। সবকিছুতেই কেমন জানি একটা গন্ধ লাগতো। আমি তো প্রথম চার-পাঁচদিন ¯্রফে মাশরুম স্যুপ খেয়ে কাটিয়েছিলাম। পরে অবশ্য হোটেল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী সাংবাদিকদের জন্য ইন্ডিয়ান খাবারের ব্যবস্থা করেছিলো। সরকারী দলের সদস্য হয়ে যাওয়াই পকেট মানি পেয়েছিলাম। আর তা দিয়ে অনেক সময় আমরা বেইজিংয়ের ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোতে খেতাম। আমাদের ছয়জনের বাইরে অবজারভার পত্রিকার রউফুল হাসান গেমস কভার করতে গিয়েছিলেন নিজ উদ্যোগে।
চীনের ক্রীড়া মন্ত্রির আমন্ত্রণে নৈশভোজ অনুষ্ঠানে আমরা বাংলাদেশী সাংবাদিকরা। দাঁড়িয়ে আমি ডান দিক থেকে তৃতীয়।
প্রতিদিন সকালে আমরা হোটেল থেকে সাংবাদিকদের জন্য রাখা সাটল বাসে বিভিন্ন ভেন্যুতে ছুটে বেড়াতাম। বিশেষ করে বাংলাদেশ যে দশটি ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলো সে ভেন্যু গুলোতেই আমরা ছুটতাম। এক একটা ভেন্যু বেশ কয়েক কিলোমিটার দুরের পথ। শরীরের ওপর চাপ পড়তো বেশ। তার ওপর সেপ্টেম্বর মাসে বেইজিংয়ে যে এতো ঠান্ডা তা আগে জানা ছিলো না। জানা ছিলো না চীনাদের ভাষা জ্ঞান সম্পর্কে। ইংরেজি জানে না বললেই চলে। গেমস উপলক্ষ্যে হোটেল, স্টেডিয়াম, মিডিয়া সেন্টার, প্রেসবক্স সব জায়গাতেই একই অবস্থা। ভাষাগত সমস্যা পোহাতে হতো প্রতিনিয়ত। বেইজিং গিয়েই জেনেছিলাম, গত এক বছর ধরে কয়েক হাজার ছেলেমেয়েকে ইংরেজি শেখানো হয়েছে। শুধুমাত্র বিদেশী দলগুলোর স্বার্থে। কিন্তু এক বছরে আর কতোই শেখা যায়! কোনো প্রয়োজনে ওদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে গেলে নিজেদের মধ্যে চাওয়া-চাওয়ি করতো আর হাসতো। আমাদের মধ্যে শাহজাহান ভাই আবার কঠিন ইংরেজি বলতেন। এতে ক্ষেপে যেতেন রুমি ভাই (মাসুদ আহমেদ রুমি)। বলতেন, একে তো ইংরেজি বোঝে না, আবার আপনি কঠিন ইংরেজি ব্যবহার করেন। শাহজাহান ভাই, রুমি ভাই বয়সে আমার চেয়ে ঢের বড়ো। তাঁদের ঝগড়া দেখে আমি খুব মজা পেতাম আর হাসতাম। আমাদের আরেক সাংবাদিক মোস্তফা কামাল ভাই দু’দিন তো রুম থেকে বেরই হতে পারলেন না। ডায়ারিয়া হয়ে গিয়েছিলো তাঁর। কারণ অনুসন্ধান করে পরে জানা গেলো, প্রতিদিন রুম এটেনডেন্টরা হোটেল রুম পরিস্কার করে প্রচুর পরিমাণ আঙ্গুর ফল দিয়ে যেতো। আর তার পুরোটাই খেয়ে ফেলতেন কামাল ভাই। আঙ্গুর গরম ফল। তাই পেটে সহ্য না হওয়ায় বাঁধিয়ে বসলেন ডায়ারিয়া। বিরক্ত হতেন রুমি ভাই। ভৎর্সনা করে বলতেন, আঙ্গুর মাগনা বলে সব খেতে হবে নাকি? আরেক সহকর্মী মোস্তফা দানেশ। হোটেল, স্টেডিয়াম, মিডিয়া সেন্টার, প্রেসবক্স সব খানেই চীনা মেয়েদের সাথে কথায় কথায় ব্যস্ত থাকতেন। সুন্দরী সব চীনা মেয়েদের দেখলেই দানিশ ভাইয়ের কথা বলা চাই-ই। এখানেও বিরক্ত হতেন সেই রুমি ভাই। কখনো ধমক দিতেন, কখনো জিজ্ঞেস করতেন এতো কি সব কথা বলো? দানিশ ভাইয়ের সার্বক্ষণিক উত্তর ছিলো চাইনিজ ভাষা শিখি। এরপর থেকেই কোনো মেয়ের সাথে দানিশ ভাইকে দেখলেই রুমি ভাই বলতেন, ঐ দেখো দেখো, দানিশ চাইনীজ শিখতে গেছে! আমি বয়সে সবার ছোট। তাই কিছুই বলতাম না। শুধু হাসতাম আর মজা নিতাম এসব কেচ্ছা-কাহিনি দেখে।
গেমসের প্রতিটি ভেন্যুতে সফট ড্রিংকস ফানটার স্টল ছিলো। আমরা ফানটা বললে চীনা সুন্দরীরা প্রথমে বুঝে উঠতে পারতো না। কিছুক্ষণ পর বলতো, ‘ও ফেনতা!’ আমাদের কামাল ভাই তাই এর পর থেকে প্রতিটি ভেন্যুতে গিয়েই বলতেন ‘গিভ মি এ ফেনতা।’ এখানেও রেগে যেতেন রুমি ভাই। বলতেন, ওরা বলে তাই আপনাকেও বলতে হবে নাকি? তেইশ দিনের এই সফরে এমন অসংখ্য মজার ঘটনা আছে যা লিখতে গেলে স্থান সংকুলান হবে না।
এবার না হয় গেমসের বিভিন্ন দিকে ফেরা যাক। এখনও চোখে ভাসছে গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বেইজিং ওয়াকার্স স্টেডিয়ামে অনিন্দ্য সুন্দর সেই কারুকার্যময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এর আগে আমি আর কখনো দেখি নাই। চীনাদের শৈল্পিক কাজগুলো আমি উপভোগ করেছি তন্ময় হয়ে। আমার সাথে আরও সত্তর হাজার দর্শক। কয়েক হাজার শিশু-কিশোর বিচিত্র সাজে বিভিন্ন স্লটে অংশ নেয়। চীনের ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট থেকে শুরু করে ড্রাম ডান্স, জিমন্যাসটিক্স ও উসু প্রদর্শন সবই ছিলো দেখার মতো। পাশাপাশি, শরতের নীলাকাশে শ্বেত শুভ্র নানা রংয়ের পায়রা এক অপূর্ব ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করে। গেমসের একাদশ এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট ইয়াং সান কুন। খেলোয়াড় ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সুশৃঙ্খল মার্চপাস্ট ছিলো দেখার মতো। চীনা বর্ণের ক্রমানুসারে বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদরা মার্চপাস্টে অংশ নেন। মাল­ীপ ছিলো সবার প্রথমে। বাংলাদেশ বাইশ নম্বরে। অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণজয়ী শুটার আতিকুর রহমান বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরদিনই এই ওয়াকার্স স্টেডিয়ামেই বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ। প্রতিপক্ষ সৌদী আরব। স্টেডিয়ামে যেয়ে দেখি বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকজন সমর্থক গ্যালারীতে থাকলেও সৌদী সমর্থক প্রচুর। এমনকি সৌদী মহিলাদের একটা বিরাট অংশ নিজ দেশের পতাকা হাতে গ্যালারীতে স্থান করে নিয়েছে। আমার তখনও ধারণা ছিলো না সৌদীর মেয়েরা সৌদীর বাইরে এতোটা খোলামেলা! এতোটা ফ্যাশনাবল। এমনকি সৌদী মেয়েদের গায়ের রং ইউরোপ, আমেরিকার মেয়েদের মতো এতো সাদা হয় সেটিও জানা ছিলো না। খোলামেলা টপস আর জিন্সের প্যান্ট পড়ে মেয়েরা এসেছে গ্যালারীতে। আমার ধারণা ছিলো ওরা সর্বত্রই বোরখা পড়ে। ভুল ভাঙলো সেদিন।
সে যাইহোক, অধিনায়ক মুন্নার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল মাঠে নামলো। বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীকে দেখা গেলো গ্যালারীতে বাংলাদেশের পতাকা হাতে। আর পুরো স্টেডিয়ামে এটিই বাংলাদেশ দলের একমাত্র সমর্থক দল। সৌদীরা গুনে গুনে চার গোল দিলো। অর্থাৎ বাংলাদেশের হার ৪-০ গোলে। পরের ম্যাচেও বাংলাদেশ হারে জাপানের কাছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে।
শুধু ফুটবল নয়, সব খেলাতেই একই চিত্র। কেবল মাত্র প্রাপ্তি কাবাডি থেকে। তাও অনেক কষ্টে। সিউলে আগের এশিয়াডে (১৯৮৬) বাংলাদেশ কাবাডিতে ব্রোঞ্জ জিতলেও এবার একধাপ ওপরে উঠে রৌপ্য। এই যা প্রাপ্তি।
অনেক আশা নিয়ে মিডিয়া সেন্টার থেকে হেঁটে দৌঁড়িয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাজির হলাম ন্যাশনাল অলিম্পিক স্পোর্টস সেন্টারের সুইমিং পুলে। ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোক বাছাইপর্বে আমাদের সাফ স্বর্ণ বিজয়ী মোখলেস, রৌপ্য বিজয়ী বজলু সাঁতরাবে। সাঁতার শুরু হলো। শেষও হলো। ফলাফল সেই একই। নিজ নিজ হিটে আটজনের মধ্যে অষ্টম। মোখলেস, বজলুর পাশাপাশি অপরাপর সাঁতারু শামসুল ইসলাম, সেলিম মিয়া, নাজমুল আলম, নাজমুল কবির ও তকবির হোসেনের সবাই হিটেই বাদ। সাঁতারের শেষ দিনে (২৮ সেপ্টেম্বর) ১০০ মিটার রীলেতে বাংলাদেশ বাছাই পর্বের বাঁধা অতিক্রম করে ফাইনালে উঠলেও রাতে ফাইনাল শেষে সর্বশেষ অবস্থান।
এ সাঁতারের সময়ই রাত ৯টায় ছিলো বাংলাদেশের বক্সিং ইভেন্ট। এই ইভেন্টে ইব্রাহিম মন্ডলের সাথে পাকিস্তানের আসগর খানের লড়াই। মিডিয়া সেন্টার থেকে ১৯ কিলোমিটার দুরে বেইজিং ইন্সটিটিউট অব ফিজিক্যাল এডুকেশন জিমনেসিয়ামের দিকে ছুটলাম। স্বান্তনা খুঁজে পেলাম শুধু এটুকুই, ইব্রাহিম পুরো তিন রাউন্ড লড়ে হারলো সম্মানজনক ব্যাবধানে। পরদিন টেনিস ভেন্যুতে গিয়েও হতাশা। শোভন জামালী ও ফয়সল জুটি ইন্দোনেশিয়ান জুটির বিরুদ্ধে শোচনীয় ভাবেই হারলো।
এবার দৌড়ালাম ইয়োতান জিমনেসিয়ামের জুডো ম্যাটে। আমিনুল ইসলাম হারলো ইরানী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ভাবলাম, পরের দিন জানে আলমের খেলা, সে অবশ্যই ভালো করবে। কারণ জানে আলম মাস দুয়েকের জন্য জাপানের কোদাকান জুডো ইন্সটিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে। কিন্তু আমাদের সে আশা ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। কয়েক সেকেন্ডের লড়াইয়ে উত্তর কোরিয়ার জুডোকার কাছে পটকান খেয়ে আর উঠে দাঁড়াতেই পারলো না জানে আলম!
জুডোর পর কুস্তি। অনেকটা প্রায় একই ধরণের লড়াই। মিডিয়া সেন্টার থেকে ২৪ কিলোমিটার দুরে শেইংশান জিমনেসিয়ামে পৌঁছলাম সাংবাদিকদের সাটল্ বাস ধরে। জামিরুল হক জাপানের প্রতিযোগির কাছে আর খান মিজান মঙ্গোলিয়ান কুস্তিগীরের কাছে হারলো। এরা দু’জনই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টিকে ছিলেন কয়েক সেকেন্ডের লড়াইয়ে। এতোটা পথ পাড়ি দিয়ে কয়েক সেকেন্ডের লড়াই দেখা! মনের অনুভুতিটা কেমন হতে পারে তা কী আর বলার প্রয়োজন পড়ে?
বেইজিং থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরে শুটিং রেঞ্জে গিয়ে আরো একরাশ হতাশা। কমনওয়েলথ গেমস থেকে স্বর্ণ নিয়ে ফেরা আব্দুস সাত্তার নিনি ও আতিকুর রহমানের সাথে আলী হায়দার ফ্রি পিস্তলে ৩৫ জন প্রতিযোগির মধ্য আতিক ৩২তম স্থানে, নিনি ২০ আর আলী হায়দার ৩৪তম স্থানে। আর মহিলাদের স্ট্যান্ডার্ড রাইফেল ইভেন্টে ২৫ জন প্রতিযোগিনীর মধ্যে খালেদা মনসুর ২৫তম, শাহানা পারভিন ২৩তম ও রৌফা ইসলাম ২১তম স্থানে। শুটিংয়ের পাশাপাশি ভারত্তোলনেও একই দৃশ্য। সব ওজন শ্রেণীতেই শোচনীয় ভাবে হার।
বেইজিং ন্যাশনাল অলিম্পিক সেন্টারের এ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকে বাংলাদেশ একমাত্র ১০০ মিটার রীলেতে বাছাই পর্বের বাঁধা অতিক্রম করে ফাইনালে পৌঁছায়। শাহান উদ্দিন, মেহেদী, মিলজার ও ওয়াজিউরের রীলে দল ফাইনালে আট দেশের মধ্যে অষ্টম স্থান লাভ করে। আর এভাবেই একে একে প্রতিযোগিতার আঠারোটি দিন কেটেছে কষ্টের অসম্ভব বেদনা নিয়ে।
সে যাইহোক, গেমস চলাকালীন ইভেন্ট কভার করার পাশাপাশি উৎসব মুখর অনেক কিছুই উপভোগ করেছিলাম এ আয়োজনে। চীনের ক্রীড়া মন্ত্রি পার্ক ইয়ং সু’র বিদেশী প্রায় সহস্রাধিক সাংবাদিকদের সম্মানে নৈশভোজ, চীনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বাংলাদেশ ক্রীড়া দলের সম্মানে নৈশভোজ, বেইজিং স্পোর্টস জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আমন্ত্রনে নৈশভোজসহ নানা জমকালো অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলো দিনব্যাপী ক্লান্তির পেছনে অনাবিল শান্তি। পাশাপাশি গেমস কমিটির আয়োজনে আমাদের নেয়া হয়েছিলো বেইজিং শহরেরর ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন এলাকা গুলোতে। চোখ মেলে, হৃদয় ভরে উপভোগ করেছি চীনের প্রাচীর, মাও সেতুংয়ের তিয়েন আনমেন স্কয়ার সহ অনেক দর্শনীয় স্থান।
কাবাডির একমাত্র রৌপ্যপদক জয় নিয়ে এবার দেশে ফেরার পালা। চায়নীজ এয়ারলাইন্সে বেইজিং থেকে সাংহাই। তারপর ব্যাংকক হয়ে ঢাকা। সাংহাই এয়ারপোর্টে যাত্রা বিরতি মাত্র এক ঘণ্টার। অথচ থাকতে হলো প্রায় চার ঘণ্টা। কারণ একটাই, আমরা যখন সাংহাই এয়ারপোর্টে পৌঁছলাম, তখন বেইজিং থেকে বার্তা এলো বাংলাদেশ ক্রীড়া দলের অন্যতম সদস্য হামিদা আলী, যিনি ভিকারুন্নেছা গার্লস স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল হোটেল রুমের তোয়ালে চুরি করেছেন। অস্বস্তিকর এ বার্তায় চায়নীজ এয়ারলাইন্স আর আকাশে উড়তে চাইলো না। আমরা বাংলাদেশী সাংবাদিকরা জেঁকে ধরলাম হামিদা আলীকে। জানতে চাইলাম ঘটনার আদ্যো-প্রান্ত। ‘আমি বুঝিনি এটাকে চুরি বলা হবে। আমি ‘স্যুভেনীর’ হিসেবে হোটেলের তোয়ালে, বাথরুমে প্রতিদিন দিয়ে যাওয়া সাবান, পারফিউম নিয়ে এসেছি।’
যাইহোক দেশে ফিরলাম। পরদিনই দৈনিক ইনকিলাব সহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে হামিদা আলীর এ ঘটনাকে চুরি আখ্যায়িত করে ফলাওভাবে সংবাদ ছাপা হলো। আর সেই সাথে এশিয়াড মিশনকে তুলে আনা হলো চুড়ান্ত ব্যর্থ এক ফলাফলের সফর হিসেবে।

মন্ট্রিয়ল, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent