বাজির সাতকাহন

বাজির সাতকাহন

কোরবানি ঈদে চরকির বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাজি নামক স্পোর্টস ড্রামা সিরিজ। এই প্রথম আমাদের দেশে স্পোর্টস ড্রামা ক্রাইম সিরিজ নির্মিত হলো। বেশ উপভোগ্য এই সিরিজটি। সিরিজের মূল বিষয় ছিল ক্রিকেট সেই সাথে ক্রিকেটের মধ্যে নোংরা রাজনীতি ও বাজি রয়েছে এগুলো খুব সুন্দর ভাবে ড্রামা আকারে উপস্থাপন হয়েছে।এখানে তাহসান ও মিথিলা দু জনই আছে। ডিভোর্সের পর এটাই তাদের প্রথম এক সাথে কাজ।।

সিরিজের অন্যতম চরিত্র হচ্ছে অপু নামে একজন নতুন ক্রিকেটার যে তার ক্যারিয়ারে ভালো সময় পার করছে কিন্তু শকুন নামক বাজির ছোবলে তার মৃত্যু হয়। তাহসান থাকে ক্যাপ্টেন। তিনি আবির চরিত্রে আছেন।অনেক দিন পর তার দুর্দান্ত অভিনয় দেখলাম। সুমিষ্ট গান গাওয়ার পাশা পাশি অভিনয়েও তিনি দক্ষ। সিরিজে পুলিশের এসআই চরিত্রে আছে মনোজ। তার ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন সেই সাথে নিজেও তদন্ত ও রহস্য উদঘাটন করছেন। মনোজ ও আবির দুটি চরিত্র খুবই গুরুত্বপুর্ন।

- Advertisement -

এখানে ঘরোয়া ক্রিকেট লিগের খেলা দেখানো হয়। খেলাধূলার মধ্যে বাজি মহামারীর মতন ছড়িয়ে গেছে। সেই বাজির বলি হয় নতুন ক্রিকেটার অপু।শুধুই অপু নয় এক ফাইভ স্টার হোটেলের রুম সার্ভিসে গার্ল ও নিহত হয়। দুটি হত্যাই ঠিক একই ভাবে হয়। সমাজে মুখোশধারীরা অনেকটা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যথেষ্ট প্রমাণও নেই। সেটার তদন্ত চলছে।।

বাজি খেলা চলছে। টাকা উড়ছে। কেউ ধরছে। কেউ হারাচ্ছে। দিন শেষে বলি হয় সাধারণ মানুষ।

সিরিজে আরেকটি রহস্যময় চরিত্র হচ্ছে চার্লি। এই চার্লির আদেশেই সব হত্যা হয় কিন্তু কে এই চার্লি?? এই চার্লি ছদ্মবেশী চরিত্র। কিন্তু তার আসল পরিচয় কি ,কি ভাবেই তাকে ধরা হবে?? সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে শেষ এপিসোড।সিরিজে খেলার দৃশ্যগুলো দুর্দান্ত ছিলো। থ্রিল থ্রিল ভাব। কেউ মাঠে খেলে আবার কেউ গ্যালারীতে ভাগ্যের খেলা খেলে। ক্রিকেটারদের জীবনেও চাপা কষ্ট আছে। অন্ধকার একটা লুকানো জীবন আছে।

কিছু পশুরুপী মানুষদের জন্যই ক্রিকেট শিল্প হুমকির মুখে পরে যায় ।তাই ক্রিকেট হোক প্রশান্তির খেলা। সিরিজে ক্রিকেট খেলা গুরুত্ব পেলেও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রাইম গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিটি চরিত্র গুরুত্বপুর্ন ছিলো। মানুষ খারাপ হয় পরিস্থিতির কারণে। খেলার মধ্যে যদি নোংরা রাজনীতি থাকে তাহলে সেখানে খেলোয়াড়রা কি করে মানসিক শান্তি তে থাকবে???

- Advertisement -

Read More

Recent