
সোশ্যাল মিডিয়াতে সারাক্ষন একটি প্রশ্ন উড়ছে I আমাদের মুসলীম কবি কাজী নজরুল ইসলাম থাকতে হিন্দু কবি রবীন্দ্রনাথের গান কেন এদেশের জাতীয় সঙ্গীত হবে? কি ভয়ংকর মূর্খতা এবং বিদ্বেষমূলক, ক্ষতিকর, সাম্প্রদায়িক মানসিকতা ! অনেকের প্রশ্ন, একজন “বিধর্মীর” লেখা গান কেন মুসলিম প্রধান দেশের জাতীয় সঙ্গীত হবে? এরা কি জানে যে নজরুল কিভাবে ইসলামের গোঁড়ামিকে আঘাত করেছিলেন ? এরা কি জানে যে আমাদের জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কাজী নজরুল ইসলাম বিয়ে করেছিলেন একজন অমুসলিমকে ? এরা কি জানে যে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ দূর করার জন্য তিনি তার নিজের ছেলের নাম রেখেছিলেন কৃষ্ণ মুহম্মদ? এরা কি জানে যে নজরুল ইসলাম ছিলেন সাম্যবাদের পূজারী ? অসাম্প্রদায়িক কবি নজরুলকে সাম্প্রদায়িক লেন্স দিয়ে দেখা বন্ধ হোক I
দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন আমাদের প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি লিখে গেছেন “গাহি সাম্যের গান/যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান/যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্লিম-ক্রীশ্চান।” “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান” উচ্চারণকারী কাজী নজরুল ইসলাম আজীবন অন্তরে ধারণ করেছেন “এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির কা’বা নাই।” অথচ আজকের বিশ্বের বিশেষ করে মৌলবাদী মুসলমানেরা এগুলো কী করছে? এরা কী শিক্ষা নিলো নজরুলের কাছ থেকে?
“আল্লাহর/ রাসূলের চেয়ে বড় কিছু নেই, আহারে মানুষ সেখানে নেই” / “মসজিদ-মন্দির এর চেয়ে বড় কিছু নাই,মানুষতো (বিশেষ করে নারী!!) ধর্তব্যে নাই” I এই মূর্খ, মূক, বধির মানুষগুলোকে কে বাঁচাবে? নজরুলকে পড়ে এটাই শিখেছি যে পৃথিবীর ধর্মীয় গ্রন্থগুলোকে পড়তে হবে বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল আর গণিতের মতোই আর একটি বিষয় হিসেবে! তাহলে যদি একটু সাম্প্রদায়িক মানসিকতার অবসান ঘটে! মৌলবাদী, হিংস্র, ঘৃণা ছড়ানোর ইসলাম ধর্মের ধুম্রজাল থেকে বের না হলে আমাদের ইতিহাসের এবং বর্তমানের ধর্মীয় কলোনাইজেরদের আমরা চিনতে পারবো না I আর ইসলামকে পঁচাবেন না I আমাদের বাপ্ -দাদারা এই মৌলবাদী, হিংস্র, ঘৃণা ছড়ানোর ইসলাম আমাদের শেখায়নি I ইসলামের স্পিরিচুয়ালিটিকে চর্চা করুন ভূমিজাত সাহিত্য, সংস্কৃতির হাত ধরে যা রবীন্দ্র, জসিম উদ্দীন এবং অন্যান্য কবি, সাহিত্যিক, বাউল এবং ঋষি, মনীষীরা করে গেছেন I
আমাদের লালন, রবীন্দ্র, নজরুল, আব্দুল হাকিম তারা ছিলেন জাতি, ধর্ম,বর্ণ, সমাজ সবকিছুর ঊর্ধে I তাদেরকে আর অপমান করবেন না, নিজেকেও আর ছোট করবেন না, সারা পৃথিবী আপনাদের অন্ধকারত্ব নিয়ে হাসছে I আর ইসলামকেও বাঁচাতে হলে মৌলবাদী মানসিকতার পরিবর্তন ঘটান I
N.B: “বিধর্মী” শব্দটা অসম্মানজনক এবং সমস্যাযুক্ত I এই শব্দটা যত্ন নিয়ে ব্যবহার করতে হবে কারণ একজন মানুষ অমুসলিম হতে পারে, কিন্তু অমুসলিমদের নিজ নিজ ধর্ম রয়েছে I
রেজিনা, কানাডা
