
ড.ইউনুসের অন্তবর্তীকালীন সরকার ঢাকার বুকে সুলতানী আমলের ঈদ আনন্দ মিছিলের আয়োজন করে।
“১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গদেশ মুসলিম অধিকারে এলেও নামাজ, রোজা ও ঈদ উদ্যাপনের প্রচলন হয় তার বেশ আগে থেকেই।তবে ঘটা করে ঈদ পালনের রীতি শুরু হয় স্বাধীন সুলতানি আমলে।
ধারণা করা হয়, সেই আমলেই প্রথম ঢাকা শহরে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন শুরু হয়। তখন কৃষিনির্ভর গ্রামবাংলায় বসবাসকারী মুসলমানরা যার যার সাধ্য অনুযায়ী ঈদের আনন্দে মেতে উঠত। ইবাদত, খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ-উৎসব—সবই ছিল তাতে।
তাদের এই আয়োজনে ভিন্ন ধর্মের লোকজনও শামিল হতো। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে আনন্দ ভাগাভাগি হতো। তবে তখনকার সময়ে সাধারণ মানুষের ঈদ আয়োজন এত ব্যয়বহুল ছিল না।(যুগান্তর)
এর ইতিহাসটুকু বলার অর্থ, সেই কবে সুলতানী আমলে ঈদ আনন্দ মিশিলের রীতি ছিল, এখন আবার এই রীতি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হলো।
যাইহোক, এই ঈদ আনন্দ মিছিলে গাধার পিঠে একজনকে দেখা যাচ্ছে।
সফেদ দাড়ী, মাথায় একধরনের টুপি পরা। তিনি উল্টদিকে গাধার পশ্চাৎদেশের দিকে মুখ করে গাধার পিঠে উপবিষ্ট।
অনেকেই এর মিল খুজে পেয়েছেন, জামাতের আমির ডা.শফিকুর রহমানের সাথে। বিষয়টি নিয়ে বেশ ট্রল হচ্ছে।।
কথা হচ্ছে,সরকারের এমন আয়োজনে জামাতের আমিরকে নিয়ে এমন ব্যাংগাত্নক কিছু করার সাহস কি কারো আছে?
এর উত্তর হচ্ছে,না,এমন সাহস কারো নেই।
তবে এটা ঠিক অবয়বের সাথে জামাতের আমিরের অদ্ভুত মিল আছে।
আসলে গাধার পিঠে উপবিষ্ট ইনি হচ্ছেন মোল্লা নাসিরউদ্দিন হোজ্জা।
“লোকটাকে কেউ ডাকে মোল্লা সাহেব। কেউ ডাকে হোজ্জা। আবার কেউ কেউ বলে মোল্লা নাসিরুদ্দিন হোজ্জা। তবে এই লোকটি সম্পর্কে যিনি ব্যাপক রিসার্চ করেছেন, সেই প্রফেসর মিকাইল বায়ারাম জানান, এই মানুষটির পূর্ণ নাম নাসির উদ্দীন মাহমুদ আল খায়ী। জন্ম ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তুরস্কে। মানুষটা ছোটখাটো, বেঁটে। মাথায় পরে পাগড়ি আর গায়ে চড়ায় জোব্বা। সার্বক্ষণিক সঙ্গী একটা গাধা। হোজ্জাকে নিয়ে হাজারেরও বেশি গল্প চালু আছে। কোনো গল্পে তাকে মনে হয় খুব বুদ্ধিমান একজন মানুষ। আবার কোনো গল্পে তার আচরণ একেবারেই বোকার মতো হয়। তবে তিনি পরিচিত তার সূক্ষ্ম রসবোধের কারণে। তার নানা কথা আমাদের যেমন হাসায়, তেমনি ভাবায়ও বটে।”
তবে ২০২৫ সালে ঈদের দিনে ঢাকায় সুলতানী আমলের ঈদ আন্দোলন মিছিলে নাসিরুদ্দিন হোজ্জা গাধার পিঠে উল্টো দিকে বসা কেন?
নাসিরুদ্দিন হোজ্জা গাধার পিঠে উল্টো দিকে বসেছেন এমন কোন ইতিহাস খুজে পাইনি।
যিনি এটি বাঁনিয়েছেন তিনি হয়ত কোন বার্তা দিতে চাচ্ছেন?
মুখটিও বানিয়েছেন জামাতের আমির ডা:শফিকুর রহমানের মতো! এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়ে থাকতে পারে।
