
গতকাল রাতে জানালার ব্লাইন্ডস তুলে রেখেছিলাম। বরফ পড়তে দেখিনি তা তো নয়,বসন্তের বাতাস বইতে শুরু করেছিল , এরমাঝে আবারো বরফ ঝরা রাত!
বিছানায় বসে বরফের ঝড় দেখি।
মনের ভিতরেও ঝড় বয়ে যায়!
কোন ঝড়ের দাপট বেশি জানি না।
ভোরের প্রার্থনা ছুঁয়ে অনেকদিন পর ঘুম স্বপ্নে মাকে দেখি। মনেহয় সবাই আছে। সব আগের মত!
ঘুমের ঘোরেও নিজেই জানি কিছুই নেই আগের মত,
মা নেই, বাবা নেই ,
পাশের মানুষ নেই,
তবু বেঁচে আছি।
তবু স্বপ্ন দেখি।মনেহয় একদিন পর্তুগাল যাবো,
একদিন মাচুপিচুর পাহাড়ে উঠবো!
নাতি নাতনী হলে , তাদের সাথে এমন সব অবাক দিনের গল্প বলবো।
ভোরের আকাশ দেখতে দেখতে কত কথা মনেহয়।
পিছনের সবুজ গাছগুলোতে থোকা থোকা বরফের ফুল জমে আছে।
মনেহয় আবার শীতকালে ঢুকে গেছে প্রকৃতি!
দুপুরে বাইওয়ার্ড এ একটা কাজে গেছিলাম। ড্রাইভ করবার সময় চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছিল। পথের দুধারে গাছগুলো বরফের ভারে নুয়ে ছিল।অনেকবার মনে হয়েছিল ছবি তুলি।
ড্রাইভ করার সময় ফোন হাতে নেয়া নিষেধ।
পুলিশ ধরলে জরিমানা তো হয় আবার পয়েনট ও কাটে। খুব সম্প্রতি চেনা একজন গান বদলাতে গেছিল, ধরা পড়ে মহা বিপদে আছে!
চোখের ভিতর জমা রাখলাম।
গত বছর আজকের দিনে বাসার পিছনে দাঁড়িয়ে সূর্যগ্রহণ দেখেছিলাম আমরা সবাই!
বিকালে রুমিভাবীর সাথে বাসার আশেপাশে গেলাম ছবি তুলতে।
অচেনা বৈশাখ গানটা গুনগুন করছিল মনে,
“অন্ধকারের ভাষা থেকে বহু দূরে
গত বছরের মায়া ভেঙে যাবে বলে,
খড়কুটো বেঁধে রাখি তোমারই আঁচলে,
অথচ তুমিও তাকে শুধু ভালোবেসো …
এসো হে বৈশাখ, এসো এসো. .”
অচনা বসন্তে গাইছিলাম …..বৈশাখের বদলে!
ছবি তুলে কিছুক্ষণ হাঁটলাম সেনট লরেনট শপিং মল এ।হাঁটু ব্যাথাটা একটু কম! কফি খেতে খেতে কত গল্প করলাম দুজন। ভাবীরা থাকতেন লীজ এভিনিউ এ একটা হাইরাইজ এপার্টমেনট এ। তখনকার প্রতিবেশী, বন্ধুরা এ শহরেই থাকে। সবাই যে যার মত!
আমরাও থাকতাম ডোনাল্ড স্ট্রীট এর একটা হাইরাইজ এর ১৯ তলায়। মনেহতো আকাশের কাছে থাকি! অনেকগুলো পরিবার ছিল চেনা। আমরা সবাই এখন ছড়ানো ছিটানো!
জীবন বদলে গেছে।
সময় কোথা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছে।
ভাবীকে বাসায় নামিয়ে ডোনাল্ড স্ট্রীট এর পাশ দিয়ে ফিরতে ফিরতে কত কথা মনেহয়। ওখানে সব জানালাতে কত গল্প জমা। এখনো কত জীবনের গল্প বয়ে যাচ্ছে আরো।
একটা দিন কেটে গেলো।
স্রষ্টাকে কৃতজ্ঞতা জানাই এই জীবনের জন্য।
প্রার্থনা করি হাঁটতে হাঁটতে একদিন নাকি বহুদিন পর ফিরে যাবো!
আমার মায়ের আঁচল দিয়ে মুখ মুছবো!
বলবো, একা জীবন বড় বেদনার মা!
আরো কত কথা বলবো…!
অটোয়া, কানাডা

