প্রতিমাসে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার

গড়ে প্রতিমাসে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার পাচারের গল্পটা দেবু দা ভালোই গেলাতে পেরেছিল

গড়ে প্রতিমাসে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার পাচারের গল্পটা দেবু দা ভালোই গেলাতে পেরেছিল। দেবু দা মানে আমাদের থলথলে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সুশীল সর্দার বলেও যাকে ডাকা যায়। সমস্যা হচ্ছে, আট মাস পরে মানুষের একটু হুস ফিরেছে, সকলের না, কারো কারো, তারা জানতে চাচ্ছে, আট মাসে তাহলে তো ১৬ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার জমা থাকার কথা। কিন্তু, হিসেবের খাতা সেই বছর ধরেই ১৯-২০ বিলিয়ন ডলারে স্থির হয়ে আছে।

তাহলে?

- Advertisement -

বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার হয়, সেটা সত্য। যার একটা বাচ্চা পড়ালেখার জন্য বিদেশে গেছে, তাকেও সন্তানের টিউশন ফি’র টাকা বাদ দিলে বেঁচে থাকার জন্য যে টাকা পাঠাতে হয়, সেটার কোন বৈধ পথ বাংলাদেশ নাই। থাকলেও এতটাই জটিল যে, মানুষ সহজ পথ হিসেবে হুন্ডির আশ্রয় নেয়। ওটা তখন পাচারের কলামে যুক্ত হয়। এমন অনেক বিষয় আছে, বৈধভাবে যা পাঠানোর সুযোগ থাকলে এবং সেটা সহজ হলে পাচারের কলামে যুক্ত হওয়ার হাত থেকে তা রক্ষা পেত, সেই কাজটাই কেউ করছে না। আপনি অনেকদিন থেকে বিদেশে থাকেন, উত্তরাধিকারসূত্রে কিছু জমি পেয়েছেন, ভাবছেন তা বিক্রি করে টাকাটা বিদেশে এনে মর্টগেজ শোধ করবেন, অবসর জীবনে ঋণের বাড়তি চাপ থাকবে না, দেশে তো ফেরা হচ্ছে না, তো সেই টাকা আনতে আপনাকে হুন্ডির কাছে যেতেই হবে। কোন উপায় নাই। শুধু কি তাই! আপনার বন্ধু কি ভাই, বিপদে পড়ে টাকা ধার নিয়েছে, এখন ফেরত দিতে চাচ্ছে, বৈধ পথে তা আসবে না। সেই হুন্ডি। তো, আপনিও পাচারকারী। এবং আপনি ভাবছেন, রাজনীতিবিদরা এত খারাপ!

দেবু দা’র উচিত ছিল পাচার হয় যে টাকা তার বিষদ বিবরণ তুলে ধরা, তাহলে দুষ্টু পাচারকারীদের সাথে অসহায় পাচারকারীদের আলাদা করার কাজটাও হলো, আর দুষ্টু পাচারের অংকটাও জানা গেল। কিন্তু, এই কাজটি তিনি করবেন না। আরো ভালো হয় বিদেশে টাকা পাঠানোর সকল বৈধ পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া। কেন আপনার সন্তানকে বৈধ পথে টাকা পাঠাতে পারবেন না? কেন, আপনার জমি বিক্রি করে সেই টাকা বিদেশে নিতে পারবেন না? কেন ধার দেওয়া টাকা ফেরত আনতে গেলে আপনাকে হুন্ডির আশ্রয় নিতে হবে?

 

ক্যালগেরি, আলবার্টা

- Advertisement -

Read More

Recent