
কানাডাকে নিয়ে লিবারেল নেতা মার্ক কার্নির যে পরিকল্পনা তার মধ্যে রয়েছে ১৩ হাজার কোটি ডলারের নতুন বিনিয়োগ, যার ফলে কমপক্ষে ২০২৮-২৯ অর্থবছর পর্যন্ত দেশে বাজেট ঘাটতি থাকবে।
‘ইউনাইট, সিকিউর, প্রোটেক্ট, বিল্ড’ শীর্ষক প্ল্যাটফর্মে জাতীয় নিরাপত্তায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়ের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে, যা কানাডাকে ২০৩০ সালের মধ্যে ন্যাটোর দেওয়া প্রতিরক্ষা বাজেটের লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাবে। এমনটাই বলেছেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করা নীতি বিশেষজ্ঞরা।
এই ব্যয় হবে রয়্যাল কানাডিয়ান নেভির জন্য নতুন সাবমেরিন ও অতিরিক্ত আইসব্রেকার ক্রয়ের পাশাপাশি কানাডায় তৈরি অগ্রিম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ এয়ারক্রাফট ক্রয় বাবদ।
আগামী চার বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের এই নতুন ব্যয়ের যে রূপরেখা প্ল্যাটফরমে তুলে ধরা হয়েছে তাতে কানাডার পার্লামেন্টারি বাজেট অফিসারের (পিবিও) ঘাটতির যে রূপরেখা তার চেয়ে বাড়বে। পিবিওর রূপরেখা অনুযায়ী, এই অর্থবছরে কানাডার ঘাটতির পরিমাণ ৪ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার, যা কানাডার মোট দেশজ উৎপাদনের ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এ ছাড়া আগামী বছর জিডিপি অনুপাত ১ শতাংশে নেমে আসবে এবং পরবর্তী দুই বছর ওই অবস্থায় থাকবে।
কার্নির লিবারেল প্ল্যাটফরম পরিচালন বাজেটকে মূলধনী ব্যয় থেকে আলাদা করেছে। অন্টারিওর হুইটবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কার্নি বলেন, অপচয় হ্রাস, দ্বৈততা পরিহার এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে আগামী তিন বছর আমরা পরিচালন বাজেটে ভারসাম্য আনব। হুইটবিতেই কার্নি লিবারেল প্ল্যাটফরম ঘোষণা করেন।
কার্নির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, চার বছর শেষে পরিচালণ বাজেটে ২২ হাজার ২০০ কোটি ডলার উদ্বৃত্তের কথা বলা হয়েছে প্ল্যাটফরমে। লিবারেল নেতার যুক্তি, এই পদক্ষেপ আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।
কার্নি বলেন, সামগ্রীকভাবে আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে আগামী পাঁচ বছরে কানাডিয়ানদের জন্য ৫০ হাজার কোটি ডলার অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করা।
লিবারেল প্ল্যাটফরমে আরও বলা হয়েছে, শুল্কের প্রতিক্রিয়ার ফলাফল হিসেবে সরকার ২ হাজার কোটি ডলার রাজস্ব আহরণের প্রত্যাশা করছে। এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও কর্মীদের সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে কার্নি এর আগে জানিয়েছিলেন।
