রাজনৈতিক ছলাকলা

বিজেপির মোদি সরকার এর আগেও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল

বিজেপির মোদি সরকার এর আগেও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল। তার ফলাফল তারা পেয়েছিল। পাকিস্তানকে শিক্ষা দেওয়ায় ভারতের জনগন সেই বারের নির্বাচনে বিজেপিকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছিল।

এইবারও বিজেপি একই খেলা খেলতে চেয়েছিল। তারা পেহেলগামে সন্ত্রাসী আক্রমণ হবার পর এর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। তারা দীর্ঘ সময় রণ-কৌশল নির্ধারণ করে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নয়টি স্থানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে।

- Advertisement -

উদ্দেশ্য ছিল আগের বারের মতো এবারও এর ফসল তারা ঘরে তুলবে কিন্তু এবার তা হয়নি।

আমি ইন্ডিয়ার কয়েকটি টিভি চ্যানেলের বিশ্লেষকদের বিশ্লেষণ শুনে মনে হয়েছে, ভারতের জনগন আমেরিকা কর্তৃক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেওয়ায় মোদি সরকারের উপর খুশি হতে পারেনি। তারা বিজেপি সরকারের এই টোকেন সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে খুব একটা তৃপ্ত নয়। তারা চেয়েছিল ভারত এবার পাকিস্তানকে চরম শিক্ষা দিবে কিন্তু সেটা না হওয়ায় তারা খুশির পরিবর্তে তাদের dissatisfaction প্রকাশ করছে।

ভারতবাসীর এই dissatisfaction আগামী নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে বলেই আমার ধারণা।

ইতিহাসের দিকে ঘুরে তাকালে দেখা যায়,একাত্তুর সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমেরিকা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী সেই যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেই কারনই একাত্তরের ১৬ ই ডিসেম্বর  বাংলাদেশ নয় মাসের মাথায় বিজয় অর্জন করে।

ইন্দিরা গান্ধীর সেই ভূমিকা ভারতবাসী দীর্ঘ দিন মনে রেখেছিল।

কিন্তু এবার ভারতের সিঁন্দুর অপারেশন যুদ্ধবিরতি মেনে দ্রুত গুটিয়ে ফেলায় ভারতবাসী মোদিকে খুব একটা কৃতিত্ব দিতে চাইছে না।

অন্য দিকে পাকিস্তানের নৈতিক বিজয় হয়েছে। শেহবাজ শরীফ দেখলাম ইতিমধ্যে সৈন্যদেরকে বীরত্বের সাথে লড়ে যাওয়ার কারনে সাধুবাদ জানাচ্ছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির পরেও পাকিস্তান বেশ কিছুক্ষন ভারতের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বেশ কিছু স্থানে ড্রোন আক্রমণ চালিয়ে গেছে। এতে কিন্তু পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত upper hand থেকে গেলো।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে,ভারত আরও বেশি সময় আক্রমণ অব্যাহত রাখলে পাকিস্তানের নাজুক অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতো । ভারত দ্রুত যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ায় পাকিস্তানের খুব একটা ক্ষতি হলো না বরং তারা এখন ব্যাপক হৈচৈ ফেলে দিয়েছে যে, যুদ্ধে তারাই ভারতকে এক হাত দেখে নিয়েছে।

মোদির এমন একটি স্বল্পমেয়াদী আক্রমণ করার চেয়ে না করাই ভালো ছিল।

পেহেলগামে যে নারী স্বামী হারা হয়ে তার সিঁথি থেকে সিঁদুর মুছে গিয়েছিল, এই স্বল্পমেয়াদী সিঁন্দুর অপারেশনে তিনি কি খুশি হতে পেরেছেন?

আমি জানি না হতে পেরেছেন কিনা তবে ভারতবাসীর অসন্তুষ্টির মধ্য দিয়ে তাদের ক্ষোভ আগামীতে ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হবে।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent