প্রতিশোধমূলক শুল্কের পক্ষে অধিকাংশ কানাডিয়ান

লেজার পরিচালিত নতুন এক সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬৭ শতাংশ কানাডিয়ান ডলারের বিপরীতে ডলারে পাল্টা শুল্কের পক্ষে মত দিয়েছেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের ব্যাপারে কানাডিয়ানরা যথেষ্ট উৎসাহ দেখাচ্ছেন। যদিও এরই মধ্যে দেশটি মন্দার মধ্যে ঢুকে গেছে অনেকে ভয়ে আছেন।

লেজার পরিচালিত নতুন এক সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬৭ শতাংশ কানাডিয়ান ডলারের বিপরীতে ডলারে পাল্টা শুল্কের পক্ষে মত দিয়েছেন। এদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ প্রতিশোধ কঠোরভাবে গ্রহণ করেছেন।

- Advertisement -

তবে কানাডা চাইছে উত্তেজনা প্রশমন করতে। সেই সঙ্গে বিশে^র বড় অংশের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি তা সীমিত রাখতে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসে কানাডা বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ টনি স্টিলো বলেছেন, যদিও মনোভাবটা এমন যে, চলুন কিছু একটা ফিরিয়ে দেই তারপরও আমি মনে করি বাস্তবতা সরকারের নীতিনির্ধারকদের এটা বলতে বাধ্য করছে যে, চলুন এটা আমরা প্রশমিত করি।

সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অটোয়ার পাল্টা শুল্কের প্রভাব বর্তমানে খুবই সামান্য। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে অটোয়া গত এপ্রিলে পাল্টা শুল্ক থেকে মার্কিন পণ্য ছয় মাসের জন্য অব্যাহতির যে ঘোষণা দিয়েছে তা প্রযোজ্য হবে ৬ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ৯৭ শতাংশের মতো। এর অর্থ হচ্ছে অক্টোবরের আগে কানাডা সত্যিকারভাবে পাল্টা আঘাতের দিকে যাচ্ছে না।

স্টিলো বলেন, আমি মনে করি এটা কৌশলগত। তারা মনে করছে, এখনো কানাডা-ইউনিাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো এগ্রিমেন্ট নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এবং এটা আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে আমাদের ওপর বেশি পড়তে যাচ্ছে। কারণ, কানাডিয়ান অর্থনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্র যতটা না নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর কানাডা তার চেয়ে বেশি নির্ভরশীল।

লেজারের সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৮ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকে স্পষ্টতই কানাডার স্বার্থের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তবে কার্নির আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৪ শতাংশ কানাডিয়ান।

দলীয় সমর্থের বিচারে ৭৫ শতাংশ লিবারেল সমর্থক মনে করেন তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। কনজার্ভেটিভদের মধ্যে এমন মনোভাব পোষণ করেন ৪৮ শতাংশ। তারা বলেন, কার্নির আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল।

লেজারের তথ্য অনুযায়ী, কানাডিয়ানরা সাধারণত কার্নি-ট্রাম্প বৈঠকের দিকে ঘনিষ্ট মনোযোগ রেখেছিলেন। ৮০ শতাংশ কানাডিয়ান ৬ মে দুই বিশে^ নেতার মধ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত সরাসরি বৈঠকটি দেখেছেন, পড়েছেন অথবা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।

ওই বৈঠকে কানাডার প্রতি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার আহ্বান প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেন। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০ শতাংশ কানাডিয়ান লেজারকে বলেছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর এই বৈঠকের কোনো প্রভাব নেই। অন্যদিকে বৈঠকটি কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নত করেছে বলে মনে করেন ২৫ শতাংশ কানাডিয়ান। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া অবশিষ্ট ১৩ শতাংশ বলেছেন, এটা আসলে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটিয়েছে।

- Advertisement -

Read More

Recent