
দূরপাল্লার ট্রেনে উঠে একদিন পাহাড়ঘেরা সেই ছোট্ট শহরটায় যাবো!
তুমি সকালবেলার ঘুমভাঙা চোখ মুছতে মুছতে পাশে এসে বসবে আর গুনগুন করে কী সব সারেগামাপাধানিসা বলবে!
তোমার ডানহাতটা আমার বামহাতের ভিতর পেঁচিয়ে নিতেই, তুমি আমার ঘাড়ের উপর মাথাটা রেখে সকালবেলার ভাঙা ঘুমটা জোড়া দেবে।
আর আমি?
আমি জানালার ওপারে তাকিয়ে দেখবো শহরগুলো ক্রমশঃ দূরে যাচ্ছে । বিস্তীর্ণ খোলামাঠের মধ্যে দিয়ে ছুটে যাচ্ছে ট্রেন!
তোমার কপালের উপর পড়ে থাকা এলোমেলো চুলের ফাঁকে তোমার মুখের দিকে তাকাবো। মনে হবে কত নক্ষত্রকাল আমরা এমন পাশাপাশি! মনে হবে তুমি রাতের রজনীগন্ধা!
আমি ফিসফিস করে তোমার নাম ধরে ডাকবো!
হাসনাহেনা ও হাসনাহেনা!
তোমাকে হাসনাহেনা বলতেই তুমি নড়ে উঠবে!
আর অমনি ভুরভুর করে তোমার সুরভী ছড়িয়ে পড়বে চারিদিকে।
আমি হাত বাড়িয়ে সেই সুরভী মাখবো! চারিদিক মৌ মৌ করবে তুমি তুমি গন্ধ!
একটা লালরং দালানের স্টেশনে ট্রেনটা থামতেই তুমি জেগে উঠবে।তোমার জন্য ক্যাফে থেকে নিয়ে আসবো ক্যাপাচিনো আর চকলেট মাফিন! আমার ডার্ক কফিতে চুমুক দিয়ে তুমি ভ্রু কুচকে তাকাবে।
বলবে,তিতাআআ!
তোমার ঝোলানো ব্যাগ থেকে বের করবে চিরুণী, আয়না, কাজল সহ আরো কতকিছু!
নীল সমুদ্রের কভার দেয়া একটা ডায়েরী দিকে তাকিয়ে থাকবো আমি! আমাদের অদেখা দিনের কত না বলা কথারা ওখানে জমেছে!
চোখে কাজল পরতে পরতেই হাত বাড়িয়ে ডায়েরীটা আমাকে দেবে আর সুরে সুরে গাইবে, “আমার না-বলা বাণীর ঘন যামিনীর মাঝে. তোমার ভাবনা তারার মতন বাজে ॥”
আমি মুগ্ধ হয়ে যাবো!
তোমার কাজল চোখের গভীরে কত কষ্টের কান্না যে লুকানো। বহুবার ভেবেছি, দেখা হবার পর, ওই চোখ দুটোতে বিরানব্বইটা চুমু খাবো!
প্রিয় কবিতা বলবো তোমার কানে কানে!
কত ইচ্ছের গল্প শোনাবো!
বলবো মাচুপিচুতে যাবো একদিন আর রাত দুপুরে জোছনার আলো মেখে মুড়িমাখা খাবো!
ঢালু পাহাড়ের কোলে একটা নীল দরজাওয়ালা বাড়িতে থাকবো আমরা! পাশের বাড়ির মাঝবয়সী দম্পতিকে মাঝে মাঝে একসাথে খেতে ডাকবো! ওরা ভাত, বাগাড় দেয়া ডাল আর মাছ ভাজি খেয়ে মুগ্ধ হয়ে যাবে!
তুমি হারমোনিয়াম বাজিয়ে সকরুণ বেনু গাইবে, আমি পড়বো সোনার তরী!
আমাদের জনম জনমের পথচলা এভাবেই চলবে !
মানুষ থেকে মানুষে, ভালোবাসা থেকে ভালোবাসায়।
গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে!
অটোয়া, কানাডা
