
ডিপস্টেট তাদের পরিত্যক্ত মাল নিয়ে কী করতে পারে, তার একটা মহরত হয়ে গেল গত কয়েক দিনে। মহাজনের লন্ডন ভ্রমন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সেরা কৌতুকের আসনে বসার দাবি রাখবে, তাতে সন্দেহ নেই। রাখাইনে করিডোর প্রকল্প কার ইশারায় ভেস্তে গেল, আপাততঃ তা জানার উপায় নেই। কিন্তু, যার উপর বাজি ধরা, সেই নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের যে আর কোন দাম নেই সেটা তারা না বুঝিয়ে ছাড়ার কথা না। তাই অপেক্ষায় ছিলাম।
আমাদের সৌভাগ্যই বলতে হবে, বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। পলাশীর ষড়যন্ত্র বলি কি প্রতারণা, তার উপর ভর করে গদিতে বসা মীর জাফরের পতন দেখতে এরচেয়ে অনেক বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আসলে টেকনলজি বিষয়টাই তাই। টোটকা বন্দুক কামান আর ঘোড়ার তুলনায় মোবাইল ফোন আর ড্রোনের স্হায়ীত্ব অনেক কম। এ যুগে মানুষের স্মৃতিও তাই সংক্ষিপ্ত—তা সেটা বন্ধুত্বের হোক কি বেঈমানীর।
সুকি কিংবা ইউনুসের পেছনে ডিপস্টেট অনেক বড় বাজি ধরে ফেলেছিল। সুকি তবু মায়ানমারকে জাতিগত সংঘাতে জড়াতে সক্ষম হয়েছে, বাংলাদেশের বেলায় ইউনুস পুরোপুরি ব্যর্থ। শতচেষ্টাতেও এখানে গৃহযুদ্ধ বাঁধাতে পারেনি। বাঙালির অন্তর্গত অস্তিত্বের সাথে মিশে থাকা মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা থেকে শুরু করে ৩২ নম্বরের বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে ধ্বংস করে ফেলা, তবু কাওকে যুদ্ধে নামাতে পারেনি, এ ছিল বিস্ময়কর ব্যর্থতা। সর্বশেষ করিডোর। ইউনুসের ধারণা ছিল সবকিছু তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক ছবির মতো ঘটবে, যেমনটা ৫ আগস্টের আগে ঘটেছিল। কিন্তু, বিধিবাম।
ইউনুস তা-ই পরিত্যক্ত।
লন্ডনে যা কিছু ঘটেছে সবই ছিল সেই উচ্ছিষ্টের খন্ডচিত্র। নোবেলজয়ী কারো সাথে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না হওয়া, কিংবা ব্রিটিশ কোন উপস্থাপক কতৃক সরাসরি ইউনুসকে স্বৈরাচারী শাসক বলে অভিহিত করাটা ছিল স্রেফ সূচনা, ইউনূসের জন্য অপেক্ষা করছে এর চেয়ে করুণ পরিণতি। আর সেটা হতে চলেছে জেনেভায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে।
আপাতত, রাজনীতির ক্লাউনদের নাচন-কুদুন দেখতে থাকুন।
ক্যালগেরি, কানাডা
