
কনজারভেটিভ পার্টি যদি গত নির্বাচনে জয়ী হতো, তাহলে পিয়েরে পলিয়েভ কি ইউক্রেনকে অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দিতেন? আমার তো মনে হয় না। বরং পিয়েরে পলিয়েভও পূর্বের ধারাবাহিকতায় ইউক্রেনকে অর্থ সাহায্য অব্যাহত রাখতেন।
তবে মার্ক কার্নির একটি বিষয় আমার পছন্দ হয়নি। তা হলো—তিনি ট্রুডোর মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যকেই নিজের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছেন। এর পরিবর্তে তিনি নতুন মুখদের প্রাধান্য দিতে পারতেন। পুরনোদের মধ্য থেকে সীমিত সংখ্যক সদস্য নেওয়া যেতো।
ট্রুডোর ব্যর্থতার জন্য যেমন তিনিই এককভাবে দায়ী, তেমনি তার মন্ত্রিসভাও এই ব্যর্থতার দায় থেকে মুক্ত নয়। সেই কারণে অধিকাংশ পুরনো মুখকে আবারও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বিশেষ করে, খ্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে পুনরায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এটা আমি কোনোভাবেই বুঝতে পারছি না।
মার্ক কার্নির সঙ্গে নেতৃত্বের দৌড়ে যারা প্রাথমিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন, তাদের অনেকেই কার্নিকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু খ্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড সরে দাঁড়াননি। তার তেমন কোনো জনপ্রিয়তা বা গ্রহণযোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি লড়াই চালিয়ে যান।
শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে মাত্র ৮% ভোট পেয়েছেন। সে হিসেবে তিনি একজন প্রমাণিত অজনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। তাহলে এমন একজনকে আবার মন্ত্রিসভায় নেওয়ার অর্থ কী?
ট্রুডোই তাকে লাইমলাইটে এনেছিলেন, আর সেই খ্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ট্রুডোর সঙ্গে যা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মার্ক কার্নি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন—এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক।
তাহলে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে অসুবিধা কোথায়?
ট্রুডোর কারণেই এই দুটি দেশের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
মার্ক কার্নির উচিত রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা। যদি তিনি এই দিকগুলোর দিকে নজর না দেন, তাহলে “যেই লাউ সেই কদু”–ই থেকে যাবে।
স্কারবোরো, কানাডা
