
কানাডার নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ফেডারেল নির্বাচনে দলটি কেবলমাত্র ৬.৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং মাত্র ৭টি আসনে জয়ী হতে পেরেছে—এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে এনডিপির সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স। এই বিপর্যয়ের দায় কাঁধে নিয়ে দলের দীর্ঘদিনের নেতা জাগমীত সিংহ পদত্যাগ করেছেন। এমনকি তিনি নিজেও তার আসন—ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বার্নাবি সেন্ট্রাল—হেরে গেছেন।
এনডিপির জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা এসেছে সংসদে অফিসিয়াল পার্টির মর্যাদা হারানোর মধ্য দিয়ে। পার্লামেন্টে এই মর্যাদা পেতে প্রয়োজনীয় ১২টি আসনের ঘরে পৌঁছাতেই পারেনি দলটি, যা এনডিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সিংহের বিদায়ের পর দলের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বে এসেছেন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য ডন ডেভিস। ২০০৮ সাল থেকে সংসদে থাকা ডেভিস এই সংকটের সময়ে দলের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এনডিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, আগামী বছরের মার্চে উইনিপেগে একটি ফেডারেল কনভেনশনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
এই নেতৃত্ব দৌড়ে ইতোমধ্যে তিনজন প্রার্থী নিজেদের নাম ঘোষণা করেছেন, ইভ সুজলার, যিনি ঘাঁটির রাজনীতিতে দলকে ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে কথা বলছেন, টনি ম্যাককোয়াইল, যিনি পরিবেশবাদী দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন, এবং ইয়্ভেজ এঙ্গলার, যিনি সামরিক বাজেট কমানো ও সর্বজনীন ফার্মাসি চালুর জোর দাবি তুলেছেন।
তবে কেউই এখনো পর্যন্ত দলীয় কর্মীদের মধ্যে আশানুরূপ উদ্দীপনা তৈরি করতে পারেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এনডিপির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক—শ্রমজীবী মানুষ, পরিবেশ সচেতন তরুণ প্রজন্ম এবং আদিবাসী সম্প্রদায়—ধীরে ধীরে দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
জুন মাসে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এনডিপির জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে মাত্র ১৩ শতাংশে। তুলনায় কনজারভেটিভ পার্টি রয়েছে ৪৮ শতাংশে এবং লিবারেলরা ২৯ শতাংশে।
মাত্র কয়েক মাস আগেও, জানুয়ারিতে, এনডিপির সমর্থন ছিল ১৯ শতাংশ—অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে ৬ পয়েন্টের পতন ঘটেছে।
এই প্রেক্ষাপটে এনডিপির সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে:
প্রথমত, তারা কি এমন এক নতুন নেতা নির্বাচিত করতে পারবে, যিনি জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবেন?
দ্বিতীয়ত, তারা কি ২০২৯ সালের ফেডারেল নির্বাচনের আগেই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারবে?
দলটির ভেতরে বর্তমানে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। একটি অংশ মনে করছে, গ্রিন পার্টির মতো প্রগতিশীল দলের সঙ্গে জোট বা একীভবন এনডিপির ভবিষ্যৎ রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, দলের মূলধারার নেতারা এখনও স্বাধীন অবস্থানেই বিশ্বাস রাখছেন এবং এনডিপির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রাখার পক্ষে রয়েছেন।
সবকিছু মিলিয়ে এখন এনডিপির চোখ আগামী বছরের মার্চের দিকে, যখন উইনিপেগে নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন।
সেই নেতা যদি দলকে শুধুমাত্র সংসদে নয়, বরং জনগণের মধ্যেও একটি শক্তিশালী, বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তাহলে হয়তো এনডিপি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
নচেৎ, এক সময়ের সম্ভাবনাময় এই বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হয়তো ইতিহাসের পাতায় একটি স্মৃতিতে পরিণত হবে।
