কানাডায় স্টুডেন্ট ভিসায় লাগাম: কমছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সংকটে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়


স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুতে কঠোরতা আরোপ করায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা হঠাৎ করেই ব্যাপক হারে কমে গেছে ফলে অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে

কানাডার অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক কড়াকড়ির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে। স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুতে কঠোরতা আরোপ করায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা হঠাৎ করেই ব্যাপক হারে কমে গেছে, ফলে অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজি ও সিটিজেনশিপ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নতুন স্টাডি পারমিট অনুমোদনের হার কমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। ২০২৪ সালের একই সময়ে অনুমোদনের হার ছিল ৪৮ শতাংশ।

- Advertisement -

এই পতনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ভারতীয় শিক্ষার্থীরা। তাদের স্টাডি পারমিট অনুমোদন ৩১ শতাংশ কমে গেছে।

সরকার এ বছর স্টুডেন্ট পারমিট সীমিত করে ৪৩৭,০০০–এ নামিয়ে এনেছে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৮৫৫,০০০-এরও বেশি। এ্যাপ্লাই বোর্ডের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কলেজ পর্যায়ে স্টুডেন্ট ভিসার এই হ্রাস আরও প্রকট—প্রায় ৬০ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর কানাডার অর্থনীতিতে আনুমানিক ২২ বিলিয়ন ডলারের অবদান রাখতেন। টিউশন ফি ছাড়াও তারা আবাসন, খাদ্য, পরিবহন এবং বিভিন্ন পরিষেবার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতেন। এখন সেই উৎস ধসে পড়ায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়েছে কিছু প্রোগ্রাম বাতিল করতে এবং কর্মী ছাঁটাই করতে।

এই সংকট মোকাবেলায় কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন দেশীয় শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে এবং বিকল্প দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উচ্চশিক্ষার টেকসই মডেল পুনর্গঠন করতে হবে।

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন বেড়েছে প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের শিক্ষা নীতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী কানাডাকে নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে ভিসা কোটার সীমাবদ্ধতার কারণে এই বাড়তি চাহিদার সুযোগও অনেক প্রতিষ্ঠান কাজে লাগাতে পারছে না।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে—অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে কানাডার টেম্পোরারি রেসিডেন্ট সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। এর ফলে শুধু স্টুডেন্ট ভিসাই নয়, ওয়ার্ক পারমিট ও অন্যান্য অস্থায়ী ভিসা ব্যবস্থাতেও কঠোরতা বজায় থাকবে।

শিক্ষাবিদরা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার এই টানাপড়েন কেবল শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, বরং কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ, অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে কানাডা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তা কেবল একটি অভ্যন্তরীণ নীতিগত সমস্যা নয়—এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। এখন সময়ই বলবে, সংকটকে কীভাবে সুযোগে পরিণত করে কানাডা তার উচ্চশিক্ষা খাতকে নতুনভাবে দাঁড় করায়।

- Advertisement -

Read More

Recent