কানাডার পর্যটনে ফিরছে চাঙ্গাভাব, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ঘরোয়া ভ্রমণেই

দীর্ঘ মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠছে কানাডার পর্যটন খাত

দীর্ঘ মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠছে কানাডার পর্যটন খাত। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি এসে দেশজুড়ে ঘরোয়া পর্যটনের উত্থান, নতুন ভ্রমণ প্রবণতা এবং সরকারি নানা উদ্যোগ পর্যটন শিল্পে নতুন গতি এনেছে। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা এখনও ২০১৯ সালের চেয়ে কিছুটা কম, তবুও দেশীয় পর্যটকদের আগ্রহে দাঁড়াচ্ছে এক শক্তিশালী ভিত।

বিশ্ব পর্যটন ও ভ্রমণ কাউন্সিল-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কানাডার পর্যটন খাত দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ১৮৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার অবদান রাখবে। এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সৃষ্টি হবে প্রায় ১৮ লাখ কর্মসংস্থান। এর মধ্যে ঘরোয়া পর্যটন থেকেই আসবে প্রায় ১০৪ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যটন থেকে আসা আয় দাঁড়াবে আনুমানিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭.৫% বেশি। যদিও এই খাত এখনো পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা ৫.৬% হ্রাস পেয়েছে। তবুও যারা আসছেন, তারা কানাডার নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্যই কানাডাকে পছন্দ করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য ভালো বার্তা দিচ্ছে। বিশ্ব পর্যটন ও ভ্রমণ কাউন্সিল-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে কানাডার পর্যটন খাত ২৩৩.৫ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক অবদান রাখবে এবং কর্মসংস্থান পৌঁছাবে ২১ লাখ ছাড়িয়ে।

এদিকে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কানাডীয়দের অনেকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রগামী ভ্রমণের বদলে নিজেদের দেশেই ঘুরতে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে মন্ট্রিয়াল, ব্যাঙ্কউভার, নোভা স্কশিয়া, ইউকন, ব্যানফ এবং উইনিপেগের মতো গন্তব্যগুলো ঘরোয়া পর্যটকদের কাছে শীর্ষ পছন্দ হয়ে উঠছে।

সরকারও এ খাত পুনরুদ্ধারে সক্রিয়। “রিডিসকভার কানাডা” প্রচারণার আওতায় চালু হয়েছে ‘কানাডা স্ট্রং পাস’, যা দিয়ে জাতীয় পার্ক, জাদুঘর ও গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন আকর্ষণ বিনামূল্যে ঘোরা যাচ্ছে। এতে করে অনেক জায়গায় বুকিং ৭৫% পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ট্যুর অপারেটররা।

যদিও আন্তর্জাতিক পর্যটনের পথ এখনও পুরোপুরি মসৃণ হয়নি, তবে ঘরোয়া পর্যটনের এই নতুন দিশা কানাডার অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই গ্রীষ্মেই হতে পারে কানাডাকে নতুন করে আবিষ্কারের সেরা সময়, নিজের দেশের অপরূপ সৌন্দর্য নতুন চোখে দেখার এক সুবর্ণ সুযোগ।

- Advertisement -

Read More

Recent