
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর আলবার্টার গ্রামীণ আসন ব্যাটল রিভার-ক্রোফুটে উপনির্বাচনে জয়ের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। আগামী ১৮ আগস্ট এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ফেডারেল নির্বাচনে অটোয়ার কার্লটন আসনে লিবারেল প্রার্থী ব্রুস ফ্যানজয়ের কাছে পরাজয়ের পর এটি পয়লিয়েভরের সংসদে ফেরার দ্বিতীয় সুযোগ। সাবেক এমপি ড্যামিয়েন কুরেক জুন মাসে পদত্যাগ করেন, যাতে পয়লিয়েভর এই আসনে প্রার্থী হতে পারেন। রেকর্ড ২১৪ জন প্রার্থী এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গত নির্বাচনে কুরেক ৮৩ শতাংশ ভোটে এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন, যা কনজারভেটিভদের অন্যতম নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই উপনির্বাচনেও পয়লিয়েভরের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। তবে তিনি বলছেন, ফলাফল নিয়ে আত্মতুষ্ট নন এবং প্রচারণা চালাচ্ছেন যেন তিনি “এক ভোট পিছিয়ে” আছেন।
সোমবার তিনি ওয়েন শহরে টাউন হল সভায় অংশ নেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালান এবং স্থানীয় মেয়র ডগ জোন্সের সঙ্গে নৈশভোজে মিলিত হন। পয়লিয়েভরের ভাষায়, কুরেক তার প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন, দরজায় দরজায় প্রচার করছেন এবং দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
কুরেক তাকে পদত্যাগ করে এই আসনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যাটল রিভার-ক্রোফুটে তেল ও গ্যাস খাতের সুরক্ষা, আগ্নেয়াস্ত্রের অধিকার রক্ষা এবং গ্যাসচালিত গাড়ি চালানোর স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় ইস্যুতে জাতীয় নেতৃত্ব প্রয়োজন।
উপনির্বাচনের ফলে কামরোজ, হান্না ও ড্রামহেলারের মতো এলাকায় নজিরবিহীন মনোযোগ এসেছে। পয়লিয়েভরের মতে, কৃষক, তেল-গ্যাস খাতের কর্মী এবং ছোট ব্যবসায়ীদের সমস্যা এখন জাতীয় আলোচনায় উঠে এসেছে।
তিনি দাবি করেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্যাসচালিত গাড়ি ও ট্রাক বিক্রিতে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা গ্রামীণ কানাডার জন্য ধ্বংসাত্মক হবে। “ডিজেলচালিত ট্রাক ছাড়া কৃষি, তেল পরিষেবা ব্যবসা বা শীতের দিনে দূরের শহরে গিয়ে বাজার করা সম্ভব নয়,” বলে জানান তিনি।
কার্বন ট্যাক্সের বিরোধিতার মতোই বৈদ্যুতিক যানবাহন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও তিনি রুখে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে লিবারেল সরকারের জ্বালানি খাতবিরোধী নীতি বাতিল করে তেল-গ্যাস শিল্প পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দেন।
নির্বাচিত হলে তিনি যতটা সম্ভব সময় এই আসনে কাটাবেন, যদিও জাতীয় ইস্যুতেও সমানভাবে সক্রিয় থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে পয়লিয়েভর বলেন, “তিনি নিজেকে কঠোর মিতব্যয়ী অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন; এখন দেখা যাক তিনি প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেন কি না।”
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
