এআই ব্যবহার করে স্কাম করছে সাইবার অপরাধীরা

প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে সাইবার অপরাধীরাও এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে

কানাডায় সাম্প্রতিক সময়ে এক নতুন ধরণের প্রতারণা দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে সাইবার অপরাধীরাও এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে যেখানে প্রতারণার কৌশলগুলো তুলনামূলকভাবে সহজে ধরা যেত, সেখানে এআই-চালিত প্রতারণা এতটাই বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে যে অভিজ্ঞ মানুষরাও সহজে ফাঁদ চিনতে পারছেন না।

আগে ফোনকল, ভুয়া ই-মেইল কিংবা টেক্সট মেসেজ ছিল স্ক্যামারদের প্রধান অস্ত্র। কিন্তু এখন এআই ভয়েস ক্লোনিং, ডিপফেক ভিডিও, আর স্মার্ট চ্যাটবট ব্যবহার করে তারা খুবই বিশ্বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি করছে।

- Advertisement -

যামন, কানাডার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে তাদের পরিবারের সদস্য বা অফিস সহকর্মীর কণ্ঠ নকল করে টাকা দাবি করা হয়েছে। আবার, কিছু ক্ষেত্রে চাকরির ইন্টারভিউ বা অনলাইন ব্যাংকিং ভেরিফিকেশনে ডিপফেক ভিডিও ব্যবহার হয়েছে, যা সত্য-মিথ্যা আলাদা করা প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।

কানাডায় আসা নতুন অভিবাসীরা এই প্রতারণার বড় শিকার। নতুন দেশ, নতুন নিয়ম-কানুন, আর সীমিত নেটওয়ার্কের কারণে তারা সহজেই প্রতারণার ফাঁদে পড়ছেন।

অনেক অভিবাসীকে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা-এর নামে ভুয়া ফোনকল দেওয়া হচ্ছে। আবার কেউ কেউ চাকরির অফার বা ভিসা প্রক্রিয়ার নামে ভুয়া ওয়েবসাইটে টাকা হারাচ্ছেন।

রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (RCMP) এবং সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এআই প্রযুক্তি যত সহজলভ্য হচ্ছে, প্রতারকরা ততই এটি ব্যবহার করবে। কানাডার এন্টি-ফ্রড সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২4 সালেই এআই-সম্পর্কিত প্রতারণার মাধ্যমে কানাডিয়ানদের কোটি কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে।

আরসিএমপি কর্মকর্তাদের মতে, “যে কোনো ফোনকল বা ভিডিও কনফারেন্সে আর্থিক লেনদেনের অনুরোধ পেলে তা যাচাই না করে কোনো পদক্ষেপ নেবেন না।”

বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষদের কয়েকটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছে। যেমন – অচেনা ফোনকল বা মেসেজে আর্থিক তথ্য শেয়ার না করা, সন্দেহজনক ই-মেইল বা ওয়েবসাইটের সত্যতা সরকারি সোর্স থেকে যাচাই করা, পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে একটি গোপন কোডওয়ার্ড ব্যবহার করা, যাতে ভয়েস ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা ধরা যায় এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বা কানাডিয়ান এন্টি-ফ্রড সেন্টারে রিপোর্ট করা।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করছে, তেমনি সঠিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এটি অপরাধ জগতকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে মানুষের আসল ও নকল পরিচয় আলাদা করা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

- Advertisement -

Read More

Recent