বিপুল সংখ্যক মাজদা গাড়ি রিকল: চালকদের জন্য সতর্কতা ও বিশাল খরচের বোঝা

গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তর আমেরিকা জুড়ে বিরল এক পদক্ষেপ নিয়েছে জাপানের অটোমোবাইল নির্মাতা মাজদা মোটর কর্পোরেশন

গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তর আমেরিকা জুড়ে বিরল এক পদক্ষেপ নিয়েছে জাপানের অটোমোবাইল নির্মাতা মাজদা মোটর কর্পোরেশন। কোম্পানি ঘোষণা করেছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে উৎপাদিত প্রায় ১,২০,০০০ গাড়িকে রিকলের আওতায় আনা হচ্ছে। শুধু কানাডাতেই এই সংখ্যা প্রায় ৪০,০০০। ব্রেক সিস্টেম, এয়ারব্যাগ সেন্সর ও স্টিয়ারিং কন্ট্রোল সফটওয়্যারে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ায় এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় নিরাপত্তা অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় দেখা গেছে যে ব্রেক সিস্টেম: প্রায় ১৮% গাড়ির ব্রেক হাইড্রোলিক লাইনে সূক্ষ্ম ফাটল তৈরি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ব্রেকিং কার্যকারিতা ২৫–৩০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে, যা সরাসরি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।, এয়ারব্যাগ সেন্সর: প্রায় ১২% গাড়ির সেন্সর যাত্রীকে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারছে না। ফলে সংঘর্ষের সময় এয়ারব্যাগ ০.৩–০.৫ সেকেন্ড দেরিতে খোলার সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায় এবং স্টিয়ারিং কন্ট্রোল: ৮% গাড়ির স্টিয়ারিং কন্ট্রোল ইউনিটে সফটওয়্যার গ্লিচ পাওয়া গেছে, যা হঠাৎ রিসেট হয়ে স্টিয়ারিংকে অস্বাভাবিকভাবে শক্ত বা ভারী করে ফেলতে পারে।

- Advertisement -

মাজদা জানিয়েছে, প্রতিটি গাড়ির বিনামূল্যে পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রতি গাড়ির গড়ে ৩৫০–৪০০ ডলার খরচ ধরা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে কোম্পানিই বহন করবে।

যেসব গাড়ির যন্ত্রাংশ সঙ্গে সঙ্গে মজুত নেই, তাদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সফটওয়্যার আপডেট দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ডাক, ইমেইল ও টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে ৬০% মালিককে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০০–২৫০ গাড়ির মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারগুলোতে বাড়তি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হতে ছয় থেকে আট মাস সময় লাগবে বলে অনুমান।

কোম্পানির হিসেবে এই রিকলে সরাসরি খরচ হবে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ব্র্যান্ড ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভবিষ্যতে বিক্রি ৩–৫% পর্যন্ত কমতে পারে, যা আরও প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করবে।

অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমানে সড়কে থাকা প্রায় ১ লাখের বেশি গাড়ির মধ্যে ২০–২৫% ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকতে পারে। অর্থাৎ আনুমানিক ২৫,০০০ গাড়ি সরাসরি দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। কানাডার সড়কে বছরে প্রায় ৩,০০,০০০ ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়েকশ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কানাডার অটোমোবাইল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ পুরো রিকল প্রক্রিয়া তদারকি করছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তদন্ত চালানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

চালকদের উদ্দেশে কোম্পানির পরামর্শ দিয়েছে যে ড্যাশবোর্ডের যেকোনো সতর্কতা লাইট উপেক্ষা না করে, ব্রেক বা স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে সামান্য পরিবর্তন টের পেলেই নিকটস্থ ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রিকল শুধু একটি প্রযুক্তিগত সমাধান নয়, বরং একটি বড় জননিরাপত্তা অভিযান। গ্রাহকের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এত বড় পদক্ষেপ নেওয়া কোম্পানির দায়বদ্ধতারই প্রমাণ। সফলভাবে এই রিকল সম্পন্ন হলে তা মাজদার ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতেও সহায়ক হবে।

- Advertisement -

Read More

Recent