
অন্টারিওর ২৪টি পাবলিক কলেজের সাপোর্ট স্টাফদের চলমান ধর্মঘট আজ নবম দিনে গড়িয়েছে। লাইব্রেরি টেকনিশিয়ান, রেজিস্ট্রেশন অফিসার, ল্যাব টেকনিশিয়ান, আইটি সাপোর্ট স্টাফ, আর্থিক সহায়তা কর্মকর্তা এবং স্টুডেন্ট সার্ভিসের অসংখ্য কর্মী গেটের বাইরে পিকেট লাইনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মূল দাবি ন্যায্য মজুরি, চাকরির নিশ্চয়তা এবং কর্মপরিবেশের উন্নতি।
শ্রমিক ইউনিয়নের পরিসংখ্যান বলছে, গত দশকে সাপোর্ট স্টাফদের বেতন গড়ে মাত্র ৫ শতাংশ বেড়েছে, অথচ একই সময়ে প্রদেশজুড়ে জীবনযাত্রার খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলস্বরূপ তাদের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ইউনিয়নের অভিযোগ, পূর্ণকালীন চাকরির সুযোগ ক্রমেই সঙ্কুচিত হচ্ছে এবং চুক্তিভিত্তিক বা পার্ট-টাইম কর্মীর সংখ্যা এখন ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে যা অনেককে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে: তিন বছরের মধ্যে কমপক্ষে ১০–১২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ী পদে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ।
অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই ৭.৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব এবং স্বাস্থ্য সুবিধার কিছু উন্নয়ন করতে রাজি। তবে ইউনিয়নের মতে, এই প্রস্তাব মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং চাকরির নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। ফলে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায়।
ধর্মঘটের কারণে কলেজগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ডেস্ক, আইটি হেল্পডেস্ক ও একাধিক ল্যাব সেন্টার বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ল্যাব সেশন বাতিল হওয়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণার কাজ পিছিয়ে পড়ছেন।
লাইব্রেরি সেবা সীমিত, ফলে অ্যাসাইনমেন্ট ও রিসার্চে সমস্যায় পড়ছেন অনেকে।
আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি বিতরণে বিলম্ব, যা বিশেষত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভিসা নবায়ন বা আবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, প্রতিদিনের এই অচলাবস্থা প্রদেশের অর্থনীতিতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি ডেকে আনছে। যদি ধর্মঘট আরও দুই সপ্তাহ অব্যাহত থাকে, প্রায় ৫ লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টিউশন ফি ফেরত দেওয়া বা সেমিস্টার বাড়ানোর মতো ব্যয় কলেজগুলোর আর্থিক পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
পিকেট লাইনে থাকা এক লাইব্রেরি টেকনিশিয়ান বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের জন্যই কাজ করি, কিন্তু ন্যায্য বেতন ও চাকরির নিশ্চয়তা ছাড়া এই ব্যবস্থা টেকসই নয়। এখন দাঁড়াতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট। কেউ কেউ কর্মীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন, আবার কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তাদের ভাষায়, “হাজার হাজার ডলার টিউশন ফি দিয়েও সেবা পাচ্ছি না।”
প্রাদেশিক সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। শ্রম মন্ত্রী জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানই সরকারের অগ্রাধিকার; তবে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কাটাতে বাধ্যতামূলক সালিশির পথও খোলা রয়েছে।
