
কানাডা ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল। কানাডার ইস্পাত পণ্যের ওপর আরোপিত নতুন শুল্ককে বৈষম্যমূলক ও একতরফা আখ্যা দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-তে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে চীন। শুক্রবার বেইজিংয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, কানাডার সিদ্ধান্ত শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকেও অস্থির করে তুলবে।
গত মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা দেন, চীনে উৎপাদিত ইস্পাত ও ইস্পাতজাত পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। কানাডার যুক্তি, আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিমভাবে কমদামে পণ্য রপ্তানি করে (ডাম্পিং) দেশীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কিছু রাষ্ট্র, বিশেষ করে চীন। ফলে দেশীয় উৎপাদক ও কর্মসংস্থান রক্ষায় এই শুল্ক আরোপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে চীন এ পদক্ষেপকে সংরক্ষণবাদী নীতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বেইজিংয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত চীনের বৈধ বাণিজ্য অধিকার খর্ব করছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করবে। তারা কানাডাকে শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ বিরোধ দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইতিমধ্যেই গত সপ্তাহে চীন কানাডার ক্যানোলা বীজ আমদানিতে প্রায় ৭৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর পাল্টা জবাবে কানাডা চীনে উৎপাদিত বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর কার্যত শতভাগ শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একে অনেকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য যুদ্ধের পূর্বাভাস হিসেবেই দেখছেন।
কানাডার ইস্পাত শিল্প দেশের অন্যতম প্রধান কর্মসংস্থান খাত। নতুন শুল্কে স্থানীয় শিল্প কিছুটা সুরক্ষা পেলেও নির্মাণ শিল্প ও অবকাঠামো প্রকল্পে খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে চীনা রপ্তানিকারকরা উত্তর আমেরিকার বড় বাজার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ইস্পাতের দাম বাড়তে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না গেলে কানাডা ও চীনের মধ্যে নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এতে উত্তর আমেরিকার ইস্পাত বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। এখন মূল প্রশ্ন হলো ডব্লিউটিও কতটা কার্যকরভাবে উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারে এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
পরিশেষে বলা যায়, কানাডার শুল্কনীতি দেশীয় শিল্পকে রক্ষার কৌশল হলেও এর বহুমুখী প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ভারসাম্যে পড়তে শুরু করেছে। চীন পাল্টা ব্যবস্থা নিলে এ বিরোধ আরও তীব্র হবে যা শুধু দুই দেশের অর্থনীতি নয়, বৈশ্বিক বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
