অন্টারিওতে হামে আক্রান্তের সর্বাধিক ঘটনা সাডবারি অঞ্চলে, বাড়ছে উদ্বেগ

অন্টারিও প্রদেশে আবারও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং সর্বাধিক সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে উত্তরপূর্বাঞ্চলের সাডবারি এলাকায়

অন্টারিও প্রদেশে আবারও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, এবং সর্বাধিক সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে উত্তরপূর্বাঞ্চলের সাডবারি এলাকায়। প্রাদেশিক জনস্বাস্থ্য সংস্থা ‘পাবলিক হেলথ অন্টারিও’ জানিয়েছে, শুধুমাত্র সাডবারি অঞ্চলেই এখন পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এই জনস্বাস্থ্য ইউনিটের আওতায় চ্যাপলো এবং ম্যানিটোলিন আইল্যান্ডসহ বিস্তীর্ণ গ্রামীণ অঞ্চল রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, জুলাইয়ের ২২ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত এক সপ্তাহে পুরো প্রদেশে নতুন করে ৫৪ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্টারিওজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৫২ জনে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ।

- Advertisement -

সাডবারি জনস্বাস্থ্য ইউনিট প্রথম ২২ জুলাই জানায় যে, ২০১৪ সালের পর প্রথমবার তাদের এলাকায় হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন এক নবজাতক, যার বয়স এতটাই কম ছিল যে, এখনও সে ভ্যাকসিন গ্রহণের উপযুক্ত হয়নি। বিষয়টি দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে এবং সঙ্গে সঙ্গেই সংক্রমণ উৎস খোঁজার কাজ শুরু হয়।

কর্তৃপক্ষের তদন্তে জানা যায়, ওই নবজাতকের সংক্রমণ ছিল আরও পুরোনো একটি বিস্তৃত প্রাদুর্ভাবের অংশ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পরবর্তীতে নিশ্চিত করেন যে, আসলে সাত সপ্তাহ আগেই ওই অঞ্চলে হাম ছড়িয়েছিল এবং মোট ৩৯ জন এতে আক্রান্ত হন। এই সংক্রমণটি মূলত কয়েকটি ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠানে ও স্থানীয় ধর্মীয় বা সামাজিক জমায়েতে ছড়ায় এবং পরে তা জনসমাগমস্থল হয়ে ওঠে সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু।

রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. এম. মুস্তাফা হিরজি জানান, “এলাকার বেশিরভাগ আক্রান্তই তারা যারা এখনও হাম প্রতিরোধী টিকা নেননি। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একবার কারো মধ্যে এটি প্রবেশ করলে তা সহজেই পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যেসব সংক্রমণ শনাক্ত করেছি, সেগুলো অনেকটাই প্রতিরোধযোগ্য ছিল, যদি টিকা নেওয়ার হার যথেষ্ট হতো।”

জনস্বাস্থ্য ইউনিট জানিয়েছে, নতুন সংক্রমণ শনাক্তের পর থেকে আক্রান্তদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে এবং সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তির ওপর পর্যবেক্ষণ জারি আছে। গত সপ্তাহে আক্রান্তদের অধিকাংশই বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তবে কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণাধীন রাখা হয়েছে।

হাম একটি প্রাচীন ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষত শিশুদের জন্য মারাত্মক। এটি শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায় এবং জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হওয়া দিয়ে শুরু হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই শরীরে ছোট ছোট লালচে দাগ দেখা দেয়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি হয়, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

অন্টারিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রদেশজুড়ে হাম প্রতিষেধক টিকা (এমএমআর ভ্যাকসিন) গ্রহণে সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রদেশে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে—প্রথম ডোজ এক বছর বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ চার থেকে ছয় বছর বয়সে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের হার কিছুটা কমে যাওয়ায় হাম পুনরায় ফিরে এসেছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

পাবলিক হেলথ অন্টারিওর পরিসংখ্যান বলছে, সাডবারি ছাড়াও নর্থ বে, ব্যারি, এবং থান্ডার বে অঞ্চলেও ছিটেফোঁটা সংক্রমণ দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সাডবারিতেই, যেখানে সংক্রমণের বিস্তার স্থানীয় সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু হয়ে স্কুল এবং বাজার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রদেশজুড়ে এখন টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে সংক্রমণ বেশি সেখানে বিশেষ মোবাইল ক্লিনিক পাঠানো হয়েছে।

অর্থাৎ, প্রায় এক দশক পর অন্টারিওতে হামের এমন ব্যাপক বিস্তার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান হার দ্রুত না বাড়ালে এই প্রাচীন ভাইরাস আবারও আধুনিক কানাডায় এক ভয়াবহ মহামারির রূপ নিতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent