
ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটির গোপন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ছবি তোলার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন এক কানাডিয়ান নাগরিক। অন্টারিওর ব্র্যাম্পটনের বাসিন্দা, ৭১ বছর বয়সী জিয়াও গুয়াং প্যান (Xiao Guang Pan) কোনো অনুমতি ছাড়াই ওই স্থাপনায় প্রবেশ করে ছবি তোলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের জানুয়ারির গোড়ার দিকে, তিন দিনের ব্যবধানে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্যান একাধিকবার ঘাঁটির আশেপাশে অবস্থান করে বিভিন্ন কোণ থেকে ছবি তুলেছিলেন। এসব ছবি পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত ডিভাইস থেকে উদ্ধার করা হয়।
ফ্লোরিডা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে শুনানিতে প্যান নিজের দোষ স্বীকার করেন। আদালতের রায়ে বিচারক তৎক্ষণাৎ ইউ.এস. ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-কে নির্দেশ দেন তাকে কানাডায় ফেরত পাঠানোর জন্য। রায়ে বলা হয়, “আসামির কর্মকাণ্ড আমেরিকান গুপ্তচরবৃত্তি আইন ও জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। তাই তাকে ইউ.এস. ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি আইনের আওতায় দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।”
আইসিই’র মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্যান বর্তমানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তবে তিনি এখন কোথায় আটক আছেন সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট করে মন্তব্য করতে পারেননি।
ঘটনাটি এমন সময় প্রকাশ্যে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিদেশি নজরদারি, ড্রোন গুপ্তচরবৃত্তি ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক মাসে মার্কিন আকাশে শত শত অচিহ্নিত ড্রোন উড়তে দেখা গেছে, যা আইনপ্রণেতা ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্যানের দোষ স্বীকার ও দেশে ফেরত পাঠানোকে অনেক বিশ্লেষক “নিরাপত্তা সংবেদনশীল বার্তা” হিসেবে দেখছেন।
ব্র্যাম্পটন আর্টস অর্গানাইজেশনের প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, জিয়াও গুয়াং প্যানের জন্ম ১৯৫৩ সালে চীনে। ২০০১ সালে তিনি কানাডায় অভিবাসন নেন এবং ২০০৩ সাল থেকে ব্র্যাম্পটনে বসবাস করছেন। ২০২২ সালে অবসর নেওয়ার আগে তিনি বেস্ট বাই কানাডায় ১৮ বছর টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, প্যান ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তিনি ডেট্রয়েট সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কোথায় অবস্থান করেছিলেন বা নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কী করছিলেন তা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
ঘটনা নিয়ে জিয়াও গুয়াং প্যান বা তার আইনজীবী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, “যদিও প্যানের কর্মকাণ্ড হয়তো ব্যক্তিগত কৌতূহল থেকে হয়েছে, তবুও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি এতটাই স্পর্শকাতর যে কোনো অনুমতি ছাড়া সামরিক স্থাপনার ছবি তোলা সরাসরি ফেডারেল অপরাধের মধ্যে পড়ে।”
এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই ধারণা করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। তবে তারা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও নজরদারি বাড়তে পারে।
