
অন্টারিও প্রদেশে নির্বাচনের পূর্ব নির্ধারিত তারিখের বিধান তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে প্রাদেশিক সরকার। প্রদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ডগ ডাউনি একগুচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন। প্রস্তাবের লক্ষ্য প্রদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে “আরও নমনীয় ও বাস্তবসম্মত” করে তোলা, যাতে সরকার পরিবর্তিত পরিস্থিতি বা জরুরি অবস্থায় দ্রুত জনগণের নতুন জনাদেশ নিতে পারে।
ডাউনি সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, প্রস্তাবিত আইন সংস্কারে তিনটি বড় পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে – নির্বাচনের পূর্ব নির্ধারিত তারিখের অবসান, রাজনৈতিক দলে অনুদানের সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার ডলার নির্ধারণ, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সরকারি তহবিল স্থায়ী করার বিধান। তিনি বলেন, “অন্টারিও আমেরিকান ধাঁচের নির্ধারিত নির্বাচনী তারিখ পদ্ধতি থেকে সরে এসে আবার সেই ব্যবস্থায় ফিরতে চায়, যা দেড় শতাব্দী ধরে আমাদের সেবা দিয়েছে।”
ডাউনি যুক্তি দেন, নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা সরকারের জন্য অনেক সময় সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। প্রদেশ বা দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে, বা কোনো অপ্রত্যাশিত সংকট দেখা দিলে, তখন সরকার চাইলে জনগণের কাছে নতুনভাবে জনাদেশ নিতে পারা উচিত। “এই সংস্কারের ফলে সরকার এমন অবস্থায় আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে পারবে,” বলেন তিনি।
অন্টারিওতে নির্বাচনের পূর্ব নির্ধারিত তারিখের বিধান চালু হয় প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৪ সালে। তৎকালীন লিবারেল প্রিমিয়ার ডাল্টন ম্যাকগিনটি এ নিয়ম চালু করেন, যাতে প্রতি চার বছর অন্তর নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই পদ্ধতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মতো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পূর্ব পরিকল্পনার সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য প্রবর্তিত হয়েছিল।
তবে বাস্তবে দেখা গেছে, সরকার চাইলে এখনো নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচন দিতে পারে যেমনটি করেছেন বর্তমান প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। ২০২২ সালের নির্বাচনের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ছিল জুন মাসে, কিন্তু ফোর্ড ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন ঘোষণা করেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আমার নতুন করে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন।”
প্রস্তাবিত এই সংস্কার নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, নির্ধারিত তারিখ তুলে দিলে সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে যাবে, যা তারা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারে। নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারী স্বার্থে ব্যবহৃত হলে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষে যুক্তি হলো অভূতপূর্ব বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সময় প্রদেশের নেতৃত্বের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা জরুরি। “জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া কোনো খারাপ বিষয় নয়, বরং এটি গণতন্ত্রেরই অংশ,” বলেন এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা।
বর্তমান আইনে পরবর্তী প্রাদেশিক নির্বাচন নির্ধারিত আছে ২০২৯ সালে। যদি নতুন সংস্কার কার্যকর হয়, তাহলে সেই নির্ধারিত তারিখ বাতিল হয়ে যাবে এবং সরকার প্রয়োজনে আগেই ভোটের ডাক দিতে পারবে।
অন্টারিওর রাজনৈতিক সংস্কার প্রস্তাব এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। প্রাদেশিক সংসদে এটি গৃহীত হলে তা শুধু প্রদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেই নয়, সমগ্র কানাডার নির্বাচনী সংস্কৃতিতেও এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
