কানাডা পোস্টের নতুন প্রস্তাবকে আরও পশ্চাৎপদ বলে দাবি ইউনিয়নের

কানাডা পোস্টের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন নতুন চুক্তি প্রস্তাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে

কানাডা পোস্টের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন নতুন চুক্তি প্রস্তাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, ক্রাউন কর্পোরেশনটি সাম্প্রতিক প্রস্তাবে “আগের অবস্থান থেকে আরও পিছিয়ে গেছে” এবং কর্মীদের মূল উদ্বেগগুলো উপেক্ষা করেছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইউনিয়ন জানায়, আগস্টে যেসব প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেগুলোর বড় অংশই আবারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা সংগঠনের হতাশা আরও বাড়িয়েছে।

শুক্রবার কানাডা পোস্ট নতুন করে যে চুক্তির নথি উপস্থাপন করেছে, তা প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার। এতে গত মে মাসে দেওয়া ‘চূড়ান্ত প্রস্তাবের’ বেশিরভাগ ধারাই বজায় রাখা হয়েছে। তবে এবার বাদ দেওয়া হয়েছে সাইনিং বোনাস এবং সম্ভাব্য ছাঁটাই সংক্রান্ত প্রভিশন যা নিয়ে টানাপোড়েন দীর্ঘদিন ধরেই চলছে।

- Advertisement -

ইউনিয়নের অভিযোগ, ছাঁটাইয়ের বিষয়টি প্রস্তাবে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, নীতিগত পরিবর্তনগুলো শেষ পর্যন্ত ব্যাপক কর্মীসংকোচনের পথ তৈরি করবে।

গত সপ্তাহে ফেডারেল সরকার কানাডা পোস্টের ব্যাপক রূপান্তর পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে – দৈনিক ডাক বিতরণ (Daily Mail Delivery) বন্ধ করা, গ্রামীণ কিছু পোস্ট অফিস স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ, বাড়ি-ভিত্তিক ডাক বিতরণের পরিবর্তে কমিউনিটি মেইলবক্স ব্যবস্থায় যাওয়া।

কানাডা পোস্ট এই রূপান্তর পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক চুক্তি প্রস্তাবেও এই পরিবর্তনের ‘স্পষ্ট প্রতিফলন’ রয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে টেকসই করতে সাহায্য করবে।

তবে ইউনিয়ন বলছে, এই পরিবর্তন হাজার হাজার কর্মীর চাকরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে এবং সেবা-প্রাপ্তির ক্ষেত্রে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার মানুষ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সরকারি রূপান্তর পরিকল্পনা ঘোষণার পরই ইউনিয়ন দেশব্যাপী ধর্মঘট শুরু করে। ইউনিয়নের দাবি, কর্মসংস্থান রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, এবং ন্যায্য বেতন কাঠামোর নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

শুক্রবার সংগঠনটি জানায়, তারা কানাডা পোস্টের দেওয়া সর্বশেষ ৫০০ পৃষ্ঠার প্রস্তাব খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করবে। ইউনিয়ন নেতৃত্বের ভাষায় “যে প্রস্তাবের বড় অংশ আমরা আগেই প্রত্যাখ্যান করেছি, তা আবারও সামনে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সময় নিয়ে বিষয়টি বিশ্লেষণ করব, কিন্তু কর্মীদের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।”

চলমান ধর্মঘট ও আলোচনার অনিশ্চয়তার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে ডাকসেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার ও কানাডা পোস্ট যদি দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে, তবে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া আরও বিতর্ক সৃষ্টি করবে এবং জনসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent