সিনাগগের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি

সিআইজেএর প্রেসিডেন্ট নোয়াহ শ্যাক শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি পাঠান

যুক্তরাজ্যের একটি সিনাগগে ইয়োম কিপুরের দিনে গাড়ি ও ছুরি হামলার ঘটনার পর কানাডার ইহুদি সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন দি সেন্টার ফর ইসরায়েল অ্যান্ড জুইশ অ্যাফেয়ার্স (সিআইজেএ) দেশের প্রতিটি স্তরের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি নিরাপত্তা জোরদারের তীব্র আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিআইজেএ বলেছে, অটোয়া থেকে শুরু করে মন্ট্রিয়ল, ম্যানচেস্টার ও ওয়াশিংটন বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলবিরোধী এবং ইহুদিবিদ্বেষী চরমপন্থা ক্রমশ সহিংসতাকে উস্কে দিচ্ছে, যা কানাডার নাগরিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে।

- Advertisement -

সিআইজেএর প্রেসিডেন্ট নোয়াহ শ্যাক শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি আগামী ৪ নভেম্বরের ফেডারেল বাজেটে “কানাডা কমিউনিটি সিকিউরিটি প্রোগ্রাম”–এর তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর দাবি জানান।

চিঠিতে শ্যাক উল্লেখ করেন, “বর্ধিত হুমকি ও হামলার কারণে আমাদের বৃহৎ কমিউনিটিগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় এখন ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে যা আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি।”

হেট ক্রাইমের ঝুঁকিতে থাকা অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা দিতে কানাডা সরকার ‘কানাডা কমিউনিটি সিকিউরিটি প্রোগ্রাম’ (CCSP) চালু করে। এই কর্মসূচির আওতায় নিরাপত্তা ব্যয়ের ৭০% পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া যায়। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত বরাদ্দ রয়েছে।

২০২৩ সালে শুরু হওয়া কর্মসূচিটির প্রাথমিক বাজেট ছিল ছয় বছরে ৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। তবে বৃদ্ধি পাওয়া হুমকি ও চাপ বিবেচনায় গত বছর আরও ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার যোগ করা হয়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৮/২৯ সাল থেকে কর্মসূচিটির বার্ষিক ব্যয় ১ কোটি ১০ লাখ ডলারে উন্নীত হতে পারে, যা সিআইজেএর দাবিকৃত বাড়তি নিরাপত্তা ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাত ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে, তার ঢেউ কানাডার ভেতরেও আঘাত হেনেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘৃণাত্মক প্রচারণা, ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি। এসব মিলেই সিনাগগ, ইহুদি স্কুল, কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

সিআইজেএ বলেছে, নিরাপত্তা তহবিল বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারকে আরও দুটি বিষয়ের ওপর কঠোর নজর দিতে হবে – ইহুদি সম্প্রদায় ও কানাডিয়ানদের বিরুদ্ধে যারা সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান

সংগঠনটির মতে, সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য যদি সময়মতো রোধ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent