
কুইবেকের স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। প্রদেশটির চিকিৎসকদের জন্য চালু হওয়া নতুন বেতন কাঠামো ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পারিশ্রমিক নির্ধারণের বিধান কার্যকর হওয়ার আগেই অন্টারিওতে চলে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন প্রায় ৩০০ চিকিৎসক। অন্টারিওর স্বাস্থ্য পেশাজীবী নিয়ন্ত্রক সংস্থা কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স অব অন্টারিও (সিপিএসও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সিপিএসও জানায়, ২৩ অক্টোবর থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কুইবেকের চিকিৎসকদের কাছ থেকে মোট ২৮৫টি লাইসেন্স আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ বছরের প্রথম দিক থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯টি। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আবেদনের এই বিস্ময়কর বৃদ্ধি কুইবেকের নতুন স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে চিকিৎসকদের অস্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কুইবেক সরকারের প্রবর্তিত নতুন আইনে আগামী বছর থেকেই চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকদের বেতন পারফরম্যান্স বা কর্মদক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পারিবারিক চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে প্রতি রোগীভিত্তিক নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হবে। সার্বিকভাবে চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করা এবং খরচ কমানোই সরকারের লক্ষ্য বলে জানালেও চিকিৎসকদের একটি অংশ মনে করছে, এতে তাদের স্বাধীনতা ও আয় দুটোই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই আশঙ্কার কারণেই বহু চিকিৎসক প্রদেশ ছেড়ে যাওয়ার জন্য বিকল্প খুঁজছেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সিপিএসও জানায়, আবেদনকারীরা অন্টারিওতে নিয়ন্ত্রিত বা ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা সেবার অনুমতি চেয়েছেন। তবে কারা কেন স্থানান্তর হতে চাইছেন বা কোন উদ্দেশ্যে আবেদন করছেন এসব তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তেমনি নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা সত্যিই অন্টারিওতে কাজ করবেন কি না, সেটিও জানানো হয় না। অন্টারিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসকদের আবেদন অনুমোদনের সংখ্যা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
শুধু অন্টারিও নয়, নিউ ব্রান্সউইকেও কুইবেকের চিকিৎসকদের আবেদন বাড়ছে। কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স অব নিউ ব্রান্সউইক (সিপিএসএনবি) জানিয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত কুইবেকের চিকিৎসকদের কাছ থেকে ৮০টির বেশি আবেদন জমা পড়েছে। সিপিএসএনবি এক বিবৃতিতে বলেছে “লাইসেন্সিংয়ের সব শর্ত পূরণ করলে আমরা চিকিৎসকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। নিউ ব্রান্সউইকে যারা কাজ করতে চান, তারা তাদের প্রত্যাশিত জীবনযাপন ও প্র্যাক্টিসের পরিবেশ পাবেন আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
নতুন বেতন কাঠামোর ফলে চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ প্রদেশ ছেড়ে অন্য প্রদেশে কাজের চিন্তা করছেন এমন আলোচনাই এখন তীব্র হচ্ছে কুইবেকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুইবেকের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আগে থেকেই জনবল সংকটে ভুগছে, সেখানে চিকিৎসকদের অন্য প্রদেশে চলে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
প্রিমিয়ার ফ্রাসোয়াঁ লেগোর সরকার অবশ্য জানিয়েছে, নতুন বেতন পদ্ধতি কার্যকর হলে চিকিৎসা সেবার মান বাড়বে এবং রোগীদের সুবিধা হবে। তবে চিকিৎসকদের একটি অংশ মনে করছেন, এই ব্যবস্থা তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে এবং পেশাগত স্বাধীনতা সীমিত করবে।
চিকিৎসকদের ব্যাপক আবেদন বৃদ্ধির এই প্রবণতা মূলত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পেশাগত স্বাধীনতার প্রশ্নে কুইবেকের নতুন স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে উদ্বেগকে প্রতিফলিত করছে। কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে চিকিৎসকদের ঘাটতি থাকায় অন্টারিও ও নিউ ব্রান্সউইক দ্রুত আবেদন গ্রহণে আগ্রহী। তবে কুইবেকের সামনে বড় প্রশ্ন চিকিৎসকদের আস্থা ধরে রেখে কীভাবে তাদের প্রদেশে কাজে ধরে রাখা যায়।
